বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

প্রবাসী কল্যাণে পাঠানো চিঠিতে যা বলা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

প্রবাসী কল্যাণে পাঠানো চিঠিতে যা বলা হয়েছে

সৌ‌দি আর‌বে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চার দিন পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয়। সেই চি‌ঠি‌তে বলা হ‌য়ে‌ছে, দুই বাংলা‌দে‌শির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট জেনারেলকে কিছুই জানায়নি।

গত ১৮ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণে পাঠা‌নো চি‌ঠি‌তে জানা‌নো হয়, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশি নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আটক ছিলেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের পাওয়া বন্দিদের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সৌদি আরবের সাইবার অপরাধ আইনে নজরুলকে আটক করা হয়। পরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয় সুইটিকে। নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দা মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। তারা দুজনই ‘আল মাজাল কোম্পানিতে’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

চিঠিতে বলা হয়, বন্দি তালিকায় ৭ নম্বর কলামে রায় ঘোষিত কয়েদিদের সাজার সংক্ষিপ্ত বিবরণ উল্লেখ থাকলেও ওই ২ জনের সাজার তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া, সৌদি আরবে সাইবার আইন এবং ব্যভিচারের অপরাধে আগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই।

চি‌ঠি‌তে আরও জানা‌নো হয়, জেদ্দা কনস্যুলেটের আওতাধীন সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারে বিভিন্ন ধরনের চারিত্রিক মামলায় ৩০৬ বাংলাদেশি আটক আছেন। এর মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষিত হয়েছে। তাদের সর্বনিম্ন ১ মাস এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, সাইবার বা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অপরাধে মক্কায় অপর ৩টি পৃথক মামলায় সর্বনিম্ন ৬ মাস এবং সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরবের ক্রিমিনাল কোর্টসহ অন্যান্য কোর্টে বর্তমানে অনুবাদক নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘মারকাযুত তারজামাহ আল মুওয়াহহাদ’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শুনানি চলাকালে অনুবাদের সহায়তা নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে এসব কোর্টে মিশনের পক্ষ থেকে বিচারিক কর্মকাণ্ডে আসামির পক্ষে অনুবাদক হিসেবে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না। ত‌বে বিচার চলাকালে এই ২ বাংলাদেশির পক্ষে দোভাষী বা আইনি প্রতিনিধিত্ব ছিল কি না, তা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি।

চিঠি অনুযায়ী, দুই বন্দির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা চেয়ে কনস্যুলেটে কোনো আবেদন বা যোগাযোগ করা হয়নি। এছাড়া, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট জেনারেলকে কিছুই জানায়নি।

গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর জানায়। এর পরদিন ১৫ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি কূটনৈতিক পত্র দিয়েছিল।

এরপর গত ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে এই কূটনৈতিক পত্র পুনরায় দেওয়া হয়।

সব‌শেষ, গত সোমবার জেদ্দার বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠক ক‌রে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডের তথ্য বাংলাদেশকে কেন জানানো হয়নি, সৌদি আরবের কাছে তা জানতে চেয়ে আরও এক‌টি কূট‌নৈ‌তিক পত্র দেওয়া হয়।

দৈনিক মুক্তবাণী

Link copied!