দৈনিক কালবেলার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মহিন উদ্দিন রিপনকে অপহরণ করে নির্যাতন, চাঁদা দাবি ও গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দুপুর ২টার দিকে টঙ্গী সেনাকল্যাণ কমার্সিয়াল কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তাকে অপহরণ করা হয়।
এসময় সন্ত্রাসীরা তাকে হাজী মাজার বস্তির একটি নির্জনস্থানে নিয়ে জবাই করার প্রস্তুতি নিলে তিনি তাদের কাছে সন্তানদের দোহাই দিয়ে প্রাণভিক্ষা চান। নির্যাতনের পর তাকে উলঙ্গ করে এক নারীর সাথে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে রাখে সন্ত্রাসীরা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপন জানান, সোমবার দুপুর ২টার দিকে সংবাদ সংগ্রহের কাজে টঙ্গী সেনাকল্যাণ কমার্সিয়াল কমপ্লেক্সের সামনে শাহ সিমেন্টের অফিসে যান। সেখানকার জেনারেল ম্যানেজার আসিফ মাহমুদের সঙ্গে কাজ শেষে অফিস থেকে বের হচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলসহ প্রায় ১০০ জনের অজ্ঞাত সন্ত্রাসী তার চোখ-মুখ বেঁধে জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাতস্থানে তুলে নিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। সেখানে সন্ত্রাসীরা তাকে `মিলাদ দেয়ার` (জবাই করার) প্রস্তুতি নেয়। এসময় তিনি তাদের কাছে সন্তানদের দোহাই দিয়ে প্রাণ ভিক্ষা চান। পরে সন্ত্রাসীরা তার কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে অন্যথায় তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। সন্ত্রাসীরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এ সময় তারা মাদকের বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাকে আরেকটি নির্জনকক্ষে নিয়ে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা এক নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক উলঙ্গ করে বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর ও নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয়।
এসময় সন্ত্রাসীরা হুমকি দেয়, ভবিষ্যতে হাজীর মাজার বস্তির মাদক ও সন্ত্রাস নিয়ে কোনো ফেসবুক লাইভ বা সংবাদ প্রকাশ করা হলে এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রায় দুই ঘণ্টা নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সন্ত্রাসীরা তাকে একটি অজ্ঞাতস্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার জ্ঞান ফিরে আসে।
এ বিষয়ে শাহ সিমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার আসিফ মাহমুদ জানান, তিনি (সাংবাদিক রিপন) আমার সাথে অবস্থানকালে একদল অপরিচিত লোক তাকে জোরপূর্বক অজ্ঞাতস্থানে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে।
