রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬
মজুরি বৃদ্ধির দাবি

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-আগুন

টঙ্গী (গাজীপুর )প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-আগুন

মজুরি ও ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এতে উত্তল হয়ে পড়ে এলাকা। শনিবার দুপুরে শুরু হওয়া এ অবরোধে মহাসড়কের প্রায় সাত কিলোমিটার অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত যাত্রী ও চালক চরম দুর্ভোগে পড়েন। 
বিকেলে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পুলিশ টিয়ারশেল, গাড়িতে আগুন, ভাংচুর, ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়।
শনিবার দুপুরের পর কালিয়াকৈরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও চন্দ্রা এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিক এতে অংশ নেন। একপর্যায়ে তাঁরা মহাসড়কে মাটিভর্তি বস্তা, কাঠ ও বাঁশ ফেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে সড়কের দুই পাশেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। যাত্রী ও চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
শ্রমিকেরা জানান, বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে তাঁরা কয়েক দিন ধরে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথমে কর্মবিরতি শুরু করেন, পরে মহাসড়কে নেমে অবরোধ করেন।
শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় আন্দোলন চলছে। এ সময় মহাসড়ক অবরোধ, মিছিল ও কিছু কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। দুপুরের পর হঠাৎ বিক্ষোভ শুরু হলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আশপাশের ১০ থেকে ১২টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। তাঁর ভাষ্য, কিছু উত্তেজিত শ্রমিক কারখানায় ঢিল ছুড়েছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শ্রমিকেরা মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের সহিংসতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং অবরোধকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা চলছিল। কিন্তু শ্রমিকেরা মহাসড়ক ছেড়ে না যাওয়ায় বিকেল পাঁচটার দিকে পুলিশ সড়ক খালি করার চেষ্টা করে। তখন শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টিয়ারশেল, ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর নিরাপত্তার জন্য মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়েছে।

এদিকে, গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে শিল্প পুলিশের ১০ সদস্য এবং অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার সকালে কোনাবাড়ী এলাকায় যমুনা ডেনিমস লিমিটেড কারখানার সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের দাবি না মেনে কারখানা কর্তৃপক্ষ পুলিশ ডেকে দমন-পীড়ন চালিয়েছে। পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেডে অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে- ২৫ জানুয়ারির মধ্যে বাৎসরিক ছুটির বকেয়া টাকা পরিশোধ, টিফিন বিল ৫০ টাকা ও নাইট বিল ১৫০ টাকা নির্ধারণ, সবার জন্য হাজিরা বোনাস ১ হাজার টাকা করা, প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ, জরুরি প্রয়োজনে ছুটি মঞ্জুর এবং শ্রমিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ বন্ধ করা।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর কোনাবাড়ী জোনের পরিদর্শক মোর্শেদ জামান সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষে শিল্প পুলিশের অন্তত ১০ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

দৈনিক মুক্তবাণী

Link copied!