সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬

পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে ছাগল-ল্যাপটপ চুরি বেড়ে যাবে: রাশেদ খাঁন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে ছাগল-ল্যাপটপ চুরি বেড়ে যাবে: রাশেদ খাঁন

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভবিষ্যতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরির ঘটনা আরও বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগকে ভয় দেখিয়ে এনসিপি তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করছে। 

এর প্রমাণ হিসেবে তিনি দাবি করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আওয়ামী লীগের নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন এবং তাদের দেওয়া গাড়ি ও অর্থ ব্যবহার করছেন। অথচ প্রকাশ্যে তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জামায়াত ও এনসিপির কঠোর বক্তব্যের পেছনে আর্থিক সহযোগিতা ও অনুদান আদায়ের চাপ তৈরির উদ্দেশ্য রয়েছে। আওয়ামী লীগ যেন তাদের নিয়মিত অনুদান ও পেছন থেকে সহযোগিতা বন্ধ না করে, সে বার্তাই দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়েও কটাক্ষ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতির সময় ল্যাপটপ চুরি এবং জাতীয় রাজনীতিতে ছাগল চুরিই পাটওয়ারীর অভিজ্ঞতা। সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনা, এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের কথা বলছেন।

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরির ঘটনা আরও বেড়ে যাবে।

এর আগে ‘পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা এবং তাকে অসম্মান করার প্রতিবাদে’ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল আয়োজিত সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাশেদ খাঁন।

সেখানে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি ও বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জামায়াতের আমিরের উসকানি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাশেদ খাঁনের দাবি, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিতে চলা আন্দোলনে ঢুকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা চালিয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত রাজপথ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।

জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দলটির লংমার্চ থেকে সরকারের সবকিছু ভেঙে তছনছ করে দেওয়ার বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। এর পর শ্রমিক আন্দোলনের নামে অরাজকতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তাই এসব ঘটনার দায় জামায়াত এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতের আমিরের দেওয়া বক্তব্যের পর অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোতে তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও মনে করেন রাশেদ খাঁন। উসকানিদাতা হিসেবে তাঁকে আইনের আওতায় আনা উচিত কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এ ছাড়া ১৯৭১ সালে জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা এবং দলটির বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তার ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা এখন বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলের অবস্থানে রয়েছে, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক।

এম/আর

Link copied!