বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
বৈঠক বর্জন শিবির-ডাকসুর

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানোর বিপক্ষে ছাত্রদল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানোর বিপক্ষে ছাত্রদল

সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকে সংবিধান সংস্কারে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানোর বিরোধিতা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। অন্যদিকে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ তুলে বৈঠক বর্জন করেছে ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ডাকসুর প্রতিনিধিরা।

এদিকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অপপ্রচার বিষয়ে সজাগ থাকতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির দশম বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।
এতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংবিধানে শিক্ষা ও চিকিৎসাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা, গণঅভ্যুত্থানের দাবি বাস্তবায়ন, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যমান ক্ষমতা, নারী ও শিশুর সুরক্ষা, জরুরি অবস্থাসংক্রান্ত বিধান এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।

উপস্থিত ছাত্র প্রতিনিধিরা নিজ নিজ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। বিস্তারিত প্রস্তাব লিখিতভাবে জমা দেওয়ার জন্য তাদেরকে সাত দিন সময় দিয়েছে কমিটি।

বৈঠক শেষে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সাংবাদিকদের জানান, সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন তারা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের জবাবদিহিতা এবং সংবিধানের মূলনীতিতে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন হলে ভবিষ্যতে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সংশোধনী বিল আনার প্রস্তাব দেন।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন জানান, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তি ছাড়া প্রায় ১৫টি ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন সংবিধান সংস্কার সভা ও সাংবিধানিক কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেয়। দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈকত আরিফ জানান, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের জন্য সাংবিধানিক কমিশন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতে পৃথক সচিবালয় গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।

বৈঠক বর্জন করল যারা:

বৈঠকের বিরোধিতা করে তা বর্জনের ঘোষণা দেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাদিক কায়েম এই বৈঠককে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাবিরোধী’ আখ্যা দেন।

বৈঠকে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা জানান, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও সরকার সেই রায় বাস্তবায়ন করেনি। গণভোটের রায় পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা বৈঠক বর্জন করেছেন।

সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ অভিযোগ করে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশও এই মতবিনিময় সভা বর্জন করেছে বলে জানান সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাইমুন ইসলাম মিঠুন। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্রশক্তির কোনো প্রতিনিধিও বৈঠকে অংশ নেননি বলে নিশ্চিত করেছেন দলটির নেতারা।

বৈঠকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সিনথিয়া জাহীন আয়েশা, জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুসহ বামপন্থী কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটির সদস্যদের মধ্যে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বৈঠকে অংশ নেন।
 

জেএইচ

Link copied!