জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জিয়ারত শেষে মোনাজাতে অংশ নেন তারা।
এদিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করেছেন বিএনপি। এদিন বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুভযাত্রা শুরু হবে। এতে হেঁটে অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, ৭ নভেম্বর দেশের জেলা ও মহানগরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই র্যালির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকালে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী বক্তব্যের পরেই এই শোভাযাত্রা শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘র্যালিটি নয়া পল্টন থেকে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাস ভবনের সামনে দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে বাংলামোটর, ফার্মগেইট হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, র্যালিতে তারেক রহমান অংশগ্রহণ করবেন। কেন্দ্রীয় এই র্যালি সফল করতে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব এসএম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান র্যালিতে থাকবেন। স্বাভাবিক কারণেই আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করছি, ঢাকা শহরে স্মরণীয় একটা র্যালি অনুষ্ঠিত হবে।’
র্যালির প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ ওরগানাইজড (সুসংগঠিত) করছি। মহানগর, থানা, ওয়ার্ডের নেতাদের নিয়ে একাধিক সভা করেছি। প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা আলাদা আনন্দ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।’
দিবসটি উপলক্ষে গতকাল এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল। তিনি আরও বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং দেশের শৌর্য, বীর্য, সাহস ও সম্মানের প্রতীক সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্ম ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় একটি প্রবাদবাক্য প্রণিধানযোগ্য-‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’। তাই সারা বেলা ইতিহাসচর্চায় মশগুল থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল।
প্রধানমন্ত্রী দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জাতীয়ভাবে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।
