জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ডিসেম্বরে কেউ দেশে আসতে চাচ্ছে, আমরা প্রস্তুত আছি। ডিসেম্বরে কোনো আপার এ দেশে আসার সুযোগ নেই।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা কার্যক্রমের পুরস্কার বিতরণীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় নাহিদ ইসলাম বলেন, আজ ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক দিন। আমরা ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব মনে করি, ২০২৪ সালকেও বিপ্লব মনে করি। অথচ সরকারের পক্ষে গেলে বিপ্লব, না গেলে গণ-আন্দোলন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, আগেরবার আমরা অনেক দয়া দেখিয়েছি, ক্ষমা করে দিয়েছি। আমরা ভেবেছিলাম ন্যায়বিচার পাব। কিন্তু বিচার পাইনি। মানুষ ন্যায়বিচার না পেলে নিজেরাই আইন হাতে তুলে নেয়।
নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন ও শ্রেণিকক্ষ সংকট দূর করতে পারেনি। এসব সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়িত্ব নিতে হবে।
তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পুরোনোদের রাজনীতি শেষ, এখন তরুণদের রাজনীতি করতে হবে। কিছু তরুণ ক্লাসরুম থেকে সংসদে গিয়ে কথা বলছে। সুযোগ পেলে নোবিপ্রবির সমস্যা ও শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো জাতীয় সংসদে তুলে ধরবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রকৃত অর্থে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা যায়নি, এগুলোকে অনেকটা পাঠশালার মতো মনে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ছাত্রসংগঠনগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও উপহার দিয়ে মন জয় করাই ছাত্রসংগঠনের কাজ নয়। শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন ও শ্রেণিকক্ষ সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আন্দোলন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই প্রকৃত ছাত্ররাজনীতির দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে জাতীয় ছাত্রশক্তির নোবিপ্রবি শাখার আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
