সেদিকুল্লাহ অতল আর ইকরাম আলিখিলের জুটি হতাশা বাড়াচ্ছিল বাংলাদেশের। কিছুতেই যখন কিছু হচ্ছিল না, তখনই এলো কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ইবাদত হোসেনের লেগ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়া করলেন ইকরাম, লিটন দাস বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে নিলেন আরেকটি অসামান্য ক্যাচ। আর এতে দেড় শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এক বিশ্ব রেকর্ডে নাম উঠে গেল বাংলাদেশের কিপার-ব্যাটারের। রেকর্ডটি লিটন গড়লেন নিজের ৩২তম জন্মদিনে।
ইকরামের ক্যাচ নেওয়া পর্যন্ত আবুধাবি টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে লিটনের ডিসমিসাল হলো ৯টি। এর পাশাপাশি ব্যাট হাতে দুই ইনিংসেই উজ্জ্বল ছিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ফিফটির পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন সেঞ্চুরি। একই টেস্টে কিপিংয়ে ৯ ডিসমিসালের সঙ্গে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করা প্রথম ক্রিকেটার তিনি।
এতে করে লিটন ভাঙলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেনিস লিন্ডসির রেকর্ড। ১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাট হাতে ৬৯ ও ১৮২ রানের পাশাপাশি ৮টি ডিসমিসাল ছিল তার।
পাইলটকে ছাড়িয়ে যাওয়া লিটনের সামনে বিশ্ব রেকর্ডের হাতছানি
আগের দিনই লিটন এক টেস্টে ৮ ডিসমিসাল করে বাংলাদেশের রেকর্ড নিজের করে নেন। খালেদ মাসুদ পাইলটের ৭ ডিসমিসালের রেকর্ড পেছনে ফেলেন তিনি। মঙ্গলবার শেষ দিনে আরও একটি ক্যাচ নিয়ে ৯ ডিসমিসালে অনন্য অর্জনের নাম উঠল তার।
চার শূন্যের পর লিটনের সেঞ্চুরির হাসি
আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে যে চার উইকেট পড়েছে, সব কটিতেই আছে লিটনের অবদান। চারটা ক্যাচই নিয়েছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে লিটন একটা দারুণ স্টাম্পিংয়ের পাশাপাশি নেন চার ক্যাচ। সেখানে দুরন্ত ক্ষিপ্রতায় নেওয়া ক্যাচও আছে তার। ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে ৫৩ করা লিটন দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ১০২ রান। ফলে এই টেস্টে তিনিই বাংলাদেশের মূল নায়ক।
লিটনের সামনে আছে আরেকটি বিশ্ব রেকর্ডের হাতছানি। আর দুটি ডিসমিসালে নাম উঠলে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডে আরও তিন কিপারের পাশে নাম উঠবে তাঁর। কোনো ম্যাচে সর্বোচ্চ ১১টি ডিসমিসালের কীর্তি যৌথভাবে ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ভারতের রিশভ পন্তের আছে। লিটন যদি আরও তিন ডিসমিসাল করেন, তাহলে এককভাবেই সেই রেকর্ডও তার হয়ে যাবে।
