প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো বৃহস্পতিবার ফেনী সফরে আসছেন তারেক রহমান। দিনব্যাপী এই সফরে তিনি পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। বিশেষ করে পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের খবরে স্থানীয় নদীপারের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্যা ও নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের নতুন আশা ও উদ্দীপনা জেগে উঠেছে।
দলীয় ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে ঢাকার বাসভবন থেকে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে তিনি ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকার সভাস্থলে পৌঁছাবেন। সেখানে প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ও জনসমাবেশে বক্তব্য প্রদান করবেন। সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সভাস্থলে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত হতে শুরু করেছেন।
পরশুরামে উদ্বোধন হতে যাওয়া এই প্রকল্পটি ফেনী অঞ্চলের নদীপারের মানুষের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা—বন্যা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী নিরসনে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে সিলোনিয়া নদীতেও অনুরূপ বাঁধ ও সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হবে।
পরশুরামের কর্মসূচি শেষে দুপুর সোয়া ১টায় প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীর উদ্দেশে রওনা হবেন। দুপুর সাড়ে ১টায় তিনি বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এরপর বেলা ২টায় ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে ফেনীর পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনের ছাদে স্থাপিত মোট ৯৬২ কিলোওয়াট (প্রায় ১ মেগাওয়াট) ক্ষমতার ‘রুফটপ সোলার’ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যাক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন।
বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সুধী সমাবেশে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করবেন। দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শেষে বিকেল ৫টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে ফেনী ত্যাগ করবেন এবং রাত ৯টার দিকে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে নেওয়া হয়েছে নিটোল নিরাপত্তাব্যবস্থা। রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট—এই তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি করছেন। সভাস্থলে বিশুদ্ধ খাবার পানি, পোর্টেবল টয়লেট এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফরের মধ্য দিয়ে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীবাসীর নদীভাঙন রোধ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার বহু বছরের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সূচনা হতে যাচ্ছে।
