স্বজাতির উপর অব্যাহত নিপিড়নে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের পৃথিবী ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে।জন সমর্থন না থাকায় একের পর এক পার্বত্য জেলার সব স্থান থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের শেষ আশ্রয়স্থল সাজেকও এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস ইতিমধ্যে সাজেক নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। শেষ ঠিকানা রক্ষায় ইউপিডিএফ দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। সে ক্ষেত্রে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে নারীদের। ইউপিডিএফ’র জন স্বার্থ বিরোধী কর্মসূচীতে অংশ না নিলে ৫ হাজার টাকা অর্থ দন্ড ও ১০টি বেতের আঘাত। ইউপিডিএফ’র দাবী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যাতে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস-কে সাজেক থেকে বিতারিত করে। এ দাবীতে শনিবার খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় আধা বেলা সড়ক অবরোধের ডাক দেয় ইউপিডিএফ প্রসীত সমর্থিত ছাত্র জনতা সংগ্রাম পরিষদ।
ভ্রমন পিপাসুদের প্রিয় দেশের অন্যতম পর্যটক কেন্দ্র খাগড়াছড়ি ও খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের আওতাধীন সাজেক। সারা বছর এখানে পর্যটকদের ভীড় লেগে থাকে। বিভিন্ন উৎসবে পর্যটকদের সংখ্যা আরো কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এবার শারদীয় দূর্গোৎসবকে ঘিরে সাজেক ও খাগড়াছড়ি ছিল পর্যটকে ঠাসা। আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত খাগড়াছড়ি ও সাজেকের সকল হোটেল-মোটেল বুকিং ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় বৃহস্পতিবার থেকে সাজেকে ইউপিডিএফ সমর্থিত সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ডাক দেয়। অপর দিকে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে ও ওই বিজ্ঞপ্তিতে সবাইকে নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অপর দিকে অবরোধের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের পাহারায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে আসার পথে বেলা ১১টার দিকে উজোবাজার এলাকায় পৌছলে সন্ত্রাসীরা পর্যটকদের উপর গুলি চালায়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদের উপরও গুলি চালায়। এতে বেশ কয়েক জন পর্যটক আহত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য পাল্টা জবাব দেয়। দুপর ১ টা পর্যন্ত সন্ত্রাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
এদিকে সাজেকের ঘটনার জেরে শনিবার খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় আধা বেলা সড়ক অবরোধের ডাক দেয় ইউপিডিএফ প্রসীত সমর্থিত ছাত্র জনতা সংগ্রাম পরিষদ।
ই- টুরিজম এসোসিয়েশন (ইটাব) সদস্য উজ্জ্বল দে’র অভিযোগ,এক দিকে একাধিক পাহাড়ি সশস্ত্র গ্রুপের ।
এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে সাজেকে ডাকা অবরোধ প্রত্যাহারের আহবান জানিয়ে বলেছেন,অন্যথায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর-কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাহাড়ে সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে নিরস্ত্র করা না গেলে পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পসহ সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে।
