খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের আওতাধীন সাজেকে থেকে ফেরার পথে উজো বাজার এলাকায় পর্যটকদের উপর সন্ত্রাসীদের গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপদে সরিয়ে আনতে গেলে তাদের উপরও গুলি চালালো হয়। এতে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আহত হয়। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা জবাবে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় এবং প্রায় ২ হাজার পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়ি পৌছে দেয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
নিরাপত্তার বাহিনীর সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের পাহারায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে ফিরছিলেন পর্যটকরা। বেলা ১১টার দিকে উজোবাজার এলাকায় পৌছলে সন্ত্রাসীরা পর্যটকদের উপর গুলি চালায়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদের উপরও গুলি চালায়। এতে বেশ কয়েক জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আহত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা জবাব দেয়। দুপর ১ টা পর্যন্ত সন্ত্রাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে প্রায় দুই হাজার পর্যটক উজোবাজার এলাকায় আটকা পড়েন।
এ ঘটনার পরই সাড়ে ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি শুরু হয় বলে জানায় পুলিশ।
উল্লেখ,গতকাল বুধবার সাজেক সড়কে তৃতীয় দফায় অবরোধের ঘোষণা দেয় ইউপিডিএফ প্রসীত সমর্থিত সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটির ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামের দুটি সংগঠন। এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটি জানায়, আজ বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ চলবে। তাই গতকালকের মধ্যে সাজেক থেকে সব পর্যটককে চলে আসতে বলা হয়।
অপর দিতে আঞ্চলিক দুটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের পর নিরাপত্তার কারণ উল্লেখ করে সাজেক বন্ধের ঘোষণা দেয় জেলা প্রশাসন। গতকাল সন্ধ্যায় এক গণবিজ্ঞপ্তিতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আজ বিকেল চারটার মধ্যে সবাইকে নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের এ নির্দেশনা মেনে বৃহস্পতিবা সকালে সাজেক ছাড়ছিলেন পর্যটকেরা। তবে সাজেক থেকে বের হওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই বাঘাইছড়ির উজো বাজারে অবরোধকারীদের সামনে পড়েন তাঁরা।
এর আগে ১৫ অক্টোবর সকাল ছয়টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেন সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।
অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। ১১ অক্টোবর একই দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন তাঁরা।
তবে জেএসএস-এর প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমার দাবী, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
