শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
সমাবেশ থেকে ব্যবসায়ীদের ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম

খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ’র অযৌক্তিক কর্মসূচীতে খাগড়াছড়ি ও সাজেক পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সুনসান নিরবতা,কোটি টাকার ক্ষতি

এইচ এম প্রফুল্ল, খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ’র  অযৌক্তিক কর্মসূচীতে খাগড়াছড়ি ও সাজেক পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সুনসান নিরবতা,কোটি টাকার ক্ষতি

 ইউপিডিএফ প্রসীত সমর্থিত সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন অনির্দিষ্টকালের অবরোধে সাজেক ও খাগড়াছড়ি এখন পর্যটক শূন্য। শত শত পর্যটক আগাম বুকিং করেও তারা সাজেক যেতে পারেনি। এর প্রভাব পড়েছে খাগড়াছড়িতেও। এদিকে খাগড়াছড়ির পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে সাজেকে অবরোধ প্রত্যাহার ও সাজেকে পর্যটক ভ্রমনে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তার মধ্যে শনিবার খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় আধা বেলা সড়ক অবরোধের ডাক দেয় ইউপিডিএফ প্রসীত  সমর্থিত  ছাত্র জনতা সংগ্রাম পরিষদ। সংগঠনটির দাবী সেনাবাহিনী সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসকে সাজেক থেকে বিতারিত করতে। 
ভ্রমন পিপাসুদের প্রিয় দেশের অন্যতম পর্যটক কেন্দ্র খাগড়াছড়ি ও খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের আওতাধীন সাজেক। সারা বছর এখানে পর্যটকদের ভীর  লেগে থাকে। বিভিন্ন উৎসবে পর্যটকদের সংখ্যা আরো কয়েক গুন বেড়ে যায়। এবার শারদীয় দূর্গোৎসবকে ঘিরে সাজেক ও খাগড়াছড়ির হোটেল ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বুকিং ছিল। কিন্তু তৃতীয়  দফায়  বৃহস্পতিবার থেকে সাজেকে ইউপিডিএফ সমর্থিত সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ডাক দেয়। অপর দিকে  এক গণবিজ্ঞপ্তিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে ও  ওই বিজ্ঞপ্তিতে সবাইকে নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের দাবী,সাজেকে অবস্থানরত  সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসকে সেনাবাহিনীকে বিতাড়িত করতে হবে।
অপর দিকে অবরোধের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের পাহারায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে আসার পথে  বেলা ১১টার দিকে উজোবাজার এলাকায় পৌছলে সন্ত্রাসীরা পর্যটকদের উপর গুলি চালায়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদের উপরও গুলি চালায়। এতে বেশ কয়েক জন পর্যটক আহত হয়।পর্যটকদের রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য পাল্টা জবাব দেয়। দুপর ১ টা পর্যন্ত সন্ত্রাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। স্থানীয়দের মতে, স্বজাতির উপর অব্যাহত নিপিড়নে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের পৃথিবী ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। জন সমর্থন না থাকায় একের পর  এক পার্বত্য জেলার সব স্থান থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের শেষ আশ্রয়স্থল সাজেকও এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস ইতিমধ্যে সাজেক নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। শেষ ঠিকানা রক্ষায় ইউপিডিএফ দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। সে ক্ষেত্রে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে নারীদের। 
সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অবরোধ ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে বুকিং থাকার পরও সাজেক যেতে পারেনি। এতে হতাশ ও ক্ষুব্দ পর্যটকরা। তারা এমন পরিস্থিতির অবসান চান। 
এদিকে সাজেকের ঘটনার জেরে শনিবার খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় আধা বেলা সড়ক অবরোধের ডাক দেয় ইউপিডিএফ প্রসীত  সমর্থিত  ছাত্র জনতা সংগ্রাম পরিষদ।
অপর দিকে সাজেকে পর্যটকদের উপর হামলা, সড়ক অবরোধ ও সাজেক ভ্রমনে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহরের দাবীতে খাগড়াছড়িতে পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
সমাবেশ থেকে অবরোধ,পর্যটকদের উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় খাগড়াছড়িতে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে বলে হুশিয়ারী দেওয়া হয়।
পর্যটক নির্ভর ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এক দিকে একাধিক পাহাড়ি সশস্ত্র গ্রুপের চাঁদাবাজি ও অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ি ও সাজেক নির্ভর ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির অবসান খাগড়াছড়ির ব্যবসায়ী নির্ভর ব্যবসায়ীরা। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচী দেওয়ার হুশিয়ারী তাদের। 
এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে সাজেকে ডাকা অবরোধ প্রত্যাহারের আহবান জানিয়ে বলেছেন, অন্যথায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর-কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,স্বজাতির উপর অব্যাহত নিপিড়নে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের পৃথিবী ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। জন সমর্থন না থাকায় একের পর  এক পার্বত্য জেলার সব স্থান থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের শেষ আশ্রয়স্থল সাজেকও এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস ইতিমধ্যে সাজেক নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। শেষ ঠিকানা রক্ষায় ইউপিডিএফ দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। সে ক্ষেত্রে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে নারীদের। ইউপিডিএফ’র জন স্বার্থ বিরোধী কর্মসূচীতে অংশ না নিলে ৫ হাজার টাকা অর্থ দন্ড ও ১০টি বেতের আঘাত।
সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে নিরস্ত্র করা না গেলে পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পসহ সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে পাহাড় থেকে প্রত্যাহারকৃত তিন শতাধিত নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প পুন: স্থাপন এখন সময়ের দাবী।

জে/এইচ

Link copied!