গাজীপুরের টঙ্গীতে ক্বারিউল কুরআন মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের প্রতিবাদে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি রোডে মাদরাসার নিজস্ব ভবনের সামনে এ প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, যৌন নিপীড়নের যেকোনো অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। তবে কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে শিক্ষককে মারধর কিংবা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বক্তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানান। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে মাদরাসা শিক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে লক্ষ্যেই ‘মব’ (উত্তেজিত জনতা) সৃষ্টি করে সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথিত ধর্ষণ ও বলাৎকারের গুজব ছড়ানো হয়েছে।
এর আগে ‘শানে সাহাবা খতিব ফাউন্ডেশন’সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের নেতারাও এ ধরনের মব কালচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্সিপাল হেদায়েত উল্লাহ আজাদী, মাওলানা আব্দুল মমিন, মাওলানা আব্দুর রহিম, মাওলানা আমিরুল ইসলাম, মুফতি শামীম মজুমদার, আব্দুল মতিন সিরাজী, মুফতি মাজহারুল ইসলাম, মাওলানা নূর মোহাম্মদ ও মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ক্বারী মোহাম্মদ আলমাছ হোসেন গাজীপুরীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
গত ২১ অক্টোবর সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ‘ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় অনধিকার প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর করা হয়।
