সাজেক সড়ক সচল ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরাতে খাগড়াছড়িতে নিরাপত্তা সমন্বয় সভা হয়েছে। সভায় সাজেক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপকি ওয়াদুদ ভূইয়ার নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের মধ্যস্থতাকারী দল গঠনের প্রস্তাব করা হয়।
শনিবার বেলা ১১টায় খাগড়াছড়ি রিজিয়ন সদর দপ্তরে রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক-এর সভাপতিত্বে সভায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা,পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খাঁনসহ বেসামরিক প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা,সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতি, বাস-ট্রাক ও রেস্তোরাঁ মালিক সমিতিসহ স্থানীয় পর্যটন এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর বারবার বাঁধার কারণে সাজেক সড়ক বন্ধ থাকায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের দৈনন্দিন দুর্ভোগের চিত্র বিস্তারিতভাবে উঠে আসে। দীর্ঘস্থায়ী এ অচলাবস্থার কারণে স্থানীয় জনমনে যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে, তা যেকোনো সময়ে ব্যাপক আকার ধারণ করে সাম্প্রদায়িক সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে বলে সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আলোচনা শেষে বিদ্যমান সংকট নিরসনে অংশীজনকর্তৃক বেশ কয়েকটি সমন্বিত প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।
উত্থাপিত প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে সংকট নিরসনে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপকি ওয়াদুদ ভূইয়া, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও বেসামরিক প্রশাসনের মাধ্যমে সড়ক অবরোধকারী তথাকথিত আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধাপে ধাপে আলোচনার প্রস্তাব জানানো হবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার নিরাপত্তা বাহিনী, জেলা পরিষদ এবং বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ মধ্যস্থতাকারী দল গঠন করা হবে যার নেতৃত্বে থাকবেন মাননীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া।
একই সাথে সাজেক সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা এবং এই উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্য মদদ দেওয়ায় কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনকে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনার বিষয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।
সভায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী এই অবৈধ অবরোধ প্রতিহত করে এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং অবিলম্বে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
