বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬

নোয়াখালীতে বিদায়ী দুই গ্রাম পুলিশকে রাজকীয় সংবর্ধনা

নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০১:১১ পিএম

নোয়াখালীতে বিদায়ী দুই গ্রাম পুলিশকে রাজকীয় সংবর্ধনা

ফুলে ফুলে সাজানো ছাদখোলা গাড়ি, বিশাল প্যান্ডেল, অতিথিদের আপ্যায়ন এবং হাজারো মানুষের ভোজের আয়োজন- দৃশ্যটি দেখে যে কারো মনে হতে পারে কোনো ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাকে দেয়া হচ্ছে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা। তবে এই আয়োজন কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার জন্য নয়, দীর্ঘ ৩৫ বছর মানুষের সেবায় কাটিয়ে দেয়া দুই গ্রাম পুলিশকে এমন ব্যতিক্রমী সম্মান জানিয়েছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ।

মঙ্গলবার  রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয় দফাদার ছেরাজুল হক ও চৌকিদার তোফায়েল আহমদকে। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক সীমিত বেতনে দায়িত্ব পালন শেষে কর্মজীবনের শেষ দিনে এমন রাজকীয় বিদায় পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারা।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রশিদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শফিকুর রহমান, ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন, সালাহ উদ্দিন বাচ্চুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

আয়োজনের শুরুতেই বিদায়ী দুই গ্রাম পুলিশকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। পরে ফুলে সাজানো ছাদখোলা গাড়িতে করে তাদের ঘোরানো হয়। ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে তৈরি করা হয় বিশাল প্যান্ডেল। সেখানে অতিথিদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্যও ছিল খাবারের আয়োজন।

দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে রসুলপুর ইউনিয়নের মানুষের সেবা করেছেন ছেরাজুল হক ও তোফায়েল আহমদ। স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখা এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে কেটেছে তাদের কর্মজীবনের দীর্ঘ সময়।

বিদায়ী গ্রাম পুলিশ দফাদার ছেরাজুল হক বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর মানুষের সেবা করেছি। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সুখ-দুঃখের স্মৃতি রয়েছে। কিন্তু কর্মজীবনের শেষ দিনে মানুষ আমাদের এত ভালোবাসা ও সম্মান জানাবে, তা কখনো ভাবিনি। এই আয়োজন আমাদের জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

অন্য বিদায়ী গ্রাম পুলিশ তোফায়েল আহমদ বলেন, চাকরিজীবনে অনেক সময় কষ্ট করে দায়িত্ব পালন করেছি। সীমিত বেতনে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। বিদায়ের দিনে এমন আয়োজন পেয়ে আমরা সত্যিই আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। চেয়ারম্যানসহ যারা আমাদের সম্মান জানিয়েছেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, গ্রাম পুলিশরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করেন। দিন-রাত দায়িত্ব পালন করলেও তাদের অবদান অনেক সময় যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। ৩৫ বছর দায়িত্ব পালনের পর তাদের জন্য এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় হয়ে থাকব।

স্থানীয়দের মতে, গ্রাম পুলিশরা তৃণমূল পর্যায়ে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। সীমিত বেতনে দীর্ঘদিন মানুষের সেবা করলেও অনেক সময় তাদের অবদান আড়ালেই থেকে যায়। তাই কর্মজীবনের শেষ দিনে তাদের এমন সম্মাননা শুধু দুই ব্যক্তির জন্য নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা সব কর্মীর জন্যই অনুপ্রেরণার।

রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ছেরাজুল হক ও তোফায়েল আহমদ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ইউনিয়নের মানুষের সেবা করেছেন। তাদের এই দীর্ঘদিনের শ্রম ও অবদানকে সম্মান জানাতেই আমাদের পক্ষ থেকে এমন আয়োজন করা হয়েছে। তারা সরকারি চাকরির দায়িত্ব পালন করলেও ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে তাদের আত্মার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। কর্মজীবনের শেষ দিনে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমরা আনন্দিত। তাদের অবদান ইউনিয়নবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান বলেন, গ্রাম পুলিশরা তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। কর্মজীবনের শেষ দিনে তাদের জন্য এমন সম্মানজনক আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে দায়িত্বশীলতা, নিষ্ঠা ও জনসেবার মানসিকতাকে উৎসাহিত করবে।

জেএইচ

Link copied!