মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) উদযাপিত হয়েছে ‘ওয়ান হেলথ ডে-২০২৬’। র্যালি, আলোচনা সভা, বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন, প্যানেল আলোচনা, প্রতিযোগিতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৪৫০ জনের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘Act Together for One Health’।
দিবসটি উপলক্ষে কয়েক দিন আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উপস্থিত বক্তৃতা, চিত্রাঙ্কন ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার ধারণা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সকালে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও বিভিন্ন প্রতীকী উপস্থাপনা নিয়ে র্যালিতে অংশ নেন ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ সময় ব্যান্ড পার্টির সঙ্গে পরিবেশন করা হয় ওয়ান হেলথবিষয়ক থিম সং। র্যালিতে বৈজ্ঞানিক ও সচেতনতামূলক বার্তার পাশাপাশি ইনস্টিটিউটের চলমান কার্যক্রমও তুলে ধরা হয়।
র্যালি শেষে সকাল ৯টায় কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিবসের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সিভাসুর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ এলাহী চৌধুরী এবং ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আহসানুল হক। পরে অধ্যাপক আহসানুল হকের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে মূল আলোচনা অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, কিডনি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস। ‘Act Together for One Health’ প্রতিপাদ্যের আলোকে তিনি সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার গুরুত্ব ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন জিয়া উদ্দিন।
মূল প্রবন্ধের পর ‘Multi- and Trans-disciplinarity in One Health’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সঞ্চালনা করেন সিভাসুর ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সোহেল আল ফারুক।
আলোচনায় অংশ নেন সিভাসুর ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক গৌতম কুমার দেবনাথ, ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শিরীন আক্তার, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুর রহমান খান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এম. এ. সাত্তার এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও ওয়ান হেলথ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ড. মাহবুবুর রহমান।
বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের মডেল, সম্ভাবনা ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বায়োটেডের নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ সওগাত ইসলাম। অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন সাউদার্ন মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মিনহাজুল আলম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক এ. কে. এম. সাইফুদ্দিন ও অধ্যাপক ড. পরিতোষ কুমার বিশ্বাস। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ এলাহী চৌধুরীকে ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
দিবসের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ওয়ান হেলথ ল্যাবরেটরির কার্যক্রমের সূচনা উপলক্ষে নির্মিত ভিডিওচিত্র প্রদর্শন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে চলমান হিট প্রকল্পের আওতায় ল্যাবরেটরিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের নিয়মিত প্রকাশনার অংশ হিসেবে নিউজলেটারের দ্বিতীয় ভলিউমের প্রথম সংখ্যা প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া ওয়ান হেলথ চট্টগ্রাম বিভাগীয় লোকাল চ্যাপ্টারের নবগঠিত কমিটি এবং ওয়ান হেলথ এমপিএইচ অ্যালামনাইয়ের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে চিত্রাঙ্কন, উপস্থিত বক্তৃতা ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সিভাসু অ্যালামনাই ও সিভাসু-এপি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ডা. রাশেদ মাহমুদ।
পরে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান এবং বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ধারণের জন্য নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজন সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ওয়ান হেলথ ইয়ং ভয়েস বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি এপি-অ্যালামনাই, এমপিএইচ অ্যালামনাই, ন্যাশনাল ডিবেট ফোরাম, বাঁধনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
