হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের জয়রামপুর ও নিজামপুর ইউনিয়নের নিতাইরচক গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নিতাইরচক গ্রামের নানু মিয়ার একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে নানু মিয়ার ভাই আশিক পার্শ্ববর্তী জয়রামপুর গ্রামের এক ব্যক্তিকে চুরির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি বাজারে ওই ব্যক্তিকে গালিগালাজ করেন এবং জয়রামপুর গ্রামকে ‘চোরের গ্রাম’ বলে অপবাদ দেন। এ নিয়ে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উভয় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, এ ঘটনায় পুলিশ কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
