রোমানিয়ার জলসীমার বাইরে কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের মালিকানাধীন একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় দুজন নাবিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন ভারতীয় নাগরিকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দিল্লির পক্ষ থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে।
ড্রোন হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। এতে জাহাজের নাবিকদের মধ্যে তিনজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন এবং তাঁদের একজন আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে রোমানিয়ায় ভারতের দূতাবাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
পোস্টে বলা হয়, ‘আজ কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি রয়াদ মাম্মাদভে হামলা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এতে দুজন (বিদেশি নাগরিক) নিহত হয়েছেন। কয়েকজন ক্রু সদস্য আহত হয়েছেন এবং রোমানিয়ায় তাঁদের চিকিৎসা চলছে। আরও জানা গেছে, ক্রু সদস্যদের মধ্যে তিনজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।’
ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।
দূতাবাস আরও জানায়, ভারতীয় রাষ্ট্রদূত মনোজ মহাপাত্র পণ্যবাহী জাহাজটিতে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁদের সুস্থতা নিশ্চিত করেছেন।
মিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘রাষ্ট্রদূত মনোজ মহাপাত্র কনস্টানতা কাউন্টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসকের সঙ্গেও কথা বলেছেন। প্রধান চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন, তিনজনই সুস্থ আছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবা পাচ্ছেন। রাষ্ট্রদূত তাঁদের সব ধরনের সম্ভাব্য সহায়তা ও সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন।’
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, আহত নাবিকের পরিস্থিতি জানতে তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। ভারতীয় ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
পণ্যবাহী জাহাজে রাশিয়ার হামলার খবরের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। দেশটি বলেছে, এ ধরনের আগ্রাসন ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে মধ্যস্থতার আহ্বান জানানোর পর্যায় পেরিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত নিজেদের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে। এ জন্য কিয়েভ ও মস্কো দুই পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করছে দিল্লি।
জয়শঙ্কর আরও বলেন, ‘কৃষ্ণসাগর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত বেসামরিক জাহাজে হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। জাতিসংঘ অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে এবং কয়েকটি দেশ এর সংস্কারে বাধা দিচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত সমাধানে আমরা মনে করি, সংলাপ ও কূটনীতিই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ।’
হামলায় নিহতদের জাতীয়তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রুশ হামলার সময় জাহাজটিতে আজারবাইজান ও ভারতের নাগরিকেরা ছিলেন।
হামলার পর জেলেনস্কি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা দুঃখজনকভাবে জানতে পেরেছি যে জাহাজটির ক্যাপ্টেন নিহত হয়েছেন। তাঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা। আরও একজনের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
জেলেনস্কি আরও জানান, ১১ জন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন আহত। পরিস্থিতি উত্তেজনামুক্ত করতে এবং কৃষ্ণসাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউক্রেন বারবার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ‘বিশ্বের খাদ্যনিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় চাপ প্রয়োগ প্রয়োজন। আর যারা সত্যিকার অর্থে এ বিষয়ে আগ্রহী, তাদের সবাইকে সহায়তা করতে হবে।’
কৃষ্ণসাগর বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বন্দর অবকাঠামোয় হামলা বাড়তে থাকায় এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথটি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
