বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় ফ্লাইদুবাই ঘিরে ইসরাইলের জরুরি প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় ফ্লাইদুবাই ঘিরে ইসরাইলের জরুরি প্রস্তুতি

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ককপিটে হামলার ঘটনার পর সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় চলে গিয়েছিল ইসরাইল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, বিমানটি তেল আবিবের দিকে এগোতে থাকলে সেটিকে গুলি করে ভূপাতিত করার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইট ১০৭৩-এ এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা চালিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিমানটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের কিছু বেশি সময়ে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। এতে বিমানটি ছিনতাই হয়েছে বা হামলার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দেয়।

ককপিট থেকে সাড়া না পাওয়ায় সক্রিয় হয় ইসরাইল

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার পর ইসরাইলি বিমান বাহিনী বিমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ককপিট থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর জরুরি নিরাপত্তা প্রটোকল চালু করা হয়, একটি কমান্ড সেন্টার গঠন করা হয় এবং ইসরাইলের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়।

পরে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয় যে বিমানটি তেল আবিবের দিকে না গিয়ে সৌদি আরবের দিকে মোড় নিয়েছে এবং জরুরি অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর ইসরাইল তাদের যুদ্ধবিমান ফিরিয়ে নেয়। একই সময়ে সৌদি আরবও যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তেল আবিবের দিকে গেলে ভূপাতিতের সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটি তেল আবিবের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখলে ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো প্রথমে বিমানের কাছে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করত এবং সেটি ছিনতাই হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করত।

যদি ছিনতাই নিশ্চিত হতো এবং ককপিট থেকে কোনো সাড়া না পাওয়া যেত, তাহলে বিষয়টি দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হতে পারত। সেক্ষেত্রে বিমানটি গুলি করে ভূপাতিত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল প্রধানমন্ত্রীর হাতে।  

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা

ইসরাইলি সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা ছিল, বিমানটি ছিনতাইকারীদের নিয়ন্ত্রণে থেকে ইসরাইলের দিকে এগোতে থাকলে এটি সংবেদনশীল কোনো স্থাপনায় হামলার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং তেল আবিবের আজরিয়েলি সেন্টার।

আহত অবস্থায় সংকট মোকাবিলা করেন ক্যাপ্টেন

ঘটনার একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়েও ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। অভিযোগ অনুযায়ী, সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি একটি ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে তার ওপর হামলা করেছিলেন।

দরজা খোলার পর কয়েকজন যাত্রী ককপিটে প্রবেশ করে সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। পরে বিমানে থাকা দায়িত্বমুক্ত দুই পাইলট নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেন এবং বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক শহরে জরুরি অবতরণ করান।

বর্তমানে ঘটনাটি তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ককপিটে হামলা এবং সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে ওঠা বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এম/আর

Link copied!