চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে প্রায় ১০ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। মানবাধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের মধ্যেই এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে আনোয়ার বলেন, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের একটি অংশকে মিয়ানমার সরকারের ব্যবস্থাপনায় বিমানযোগে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার আওতায় গত সপ্তাহে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে সমুদ্রপথে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।
রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুসহ ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করেন আনোয়ার। তবে তিনি বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে দেশে ফেরার পর তাদের কোনো ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না।
আনোয়ার বলেন, ‘মিয়ানমারকে আমরা দুটি শর্ত দিয়েছি। প্রথমত, তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ফিরে যাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে হবে, যাতে কোনো ধরনের নির্যাতন, জবরদস্তি বা অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটে।’
তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কুয়ালালামপুর সফরে আসছেন মিয়ানমারের নেতা মিন অং হ্লাইং। এ সফরের সময় বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে আরও আলোচনা করবেন তিনি।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা মিন অং হ্লাইংয়ের এ সফরকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তার নেতৃত্বেই ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল, যার ফলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।
মালয়েশিয়ার দাবি, ফেরত পাঠানো সবাই স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে সম্মত হয়েছেন। তবে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, অনেক শরণার্থীর সামনে বাস্তবে খুব বেশি বিকল্প ছিল না।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ফেরত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট মিয়ানমার নাগরিকদের সঙ্গে তাদের কর্মকর্তাদের দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে তাদের সিদ্ধান্ত সত্যিই স্বতঃস্ফূর্ত ও সচেতনভাবে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে মালয়েশিয়ায় শরণার্থী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযানও বেড়েছে। ২০২৬ সালে দেশটিতে ৫০ হাজারের বেশি শরণার্থীকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে রোহিঙ্গারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা ছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার মিয়ানমার নাগরিক শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছেন। দেশটি জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনের সদস্য না হওয়ায় শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের অনথিভুক্ত অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে। বর্তমানে দেশটিতে ইউএনএইচসিআর নিবন্ধিত প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন।
