মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

আসামে হোটেলের ভেতরে এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ১১:০৯ এএম

আসামে হোটেলের ভেতরে এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ৫

পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে নামক একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পয়েন্ট ৩২ বোরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তলটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে বোরা সার্ভিস এলাকার একটি গলিতে অবস্থিত ‘বিলাস ইন’ হোটেল থেকে টানা গুলির শব্দ ভেসে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ গুয়াহাটি পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা হোটেলের ভেতরের কক্ষ থেকে ৪ জনের নিথর দেহ উদ্ধার করে। হোটেলের বাইরের অংশে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।উদ্ধার হওয়া আশঙ্কাজনক ব্যক্তিটিকে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

হাতে গুলি লেগে গুরুতর আহত অবস্থায় আরও এক হোটেল কর্মচারী সত্যেন্দ্র পাঠক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অন্যদিকে মৃতেরা হলেন- হেলেনা ভরালি (হোটেলের মূল মালকিন), এষাণ কাশ্যপ / দেবর্ষি কাশ্যপ (হেলেনা ভরালির পুত্র), ভূদেব ভরালি (হেলেনা ভরালির দাদা), নারায়ণ দাস, অন্য একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি (পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ চলছে)।

গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট যে এটি কোনো জঙ্গি হামলা বা আকস্মিক সশস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়; বরং এর নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের আর্থিক ও সম্পত্তিগত বিরোধ।

বিলাস ইন হোটেলটির মূল মালিক ছিলেন বরপেটার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রয়াত ধ্রুব ভরালি। তার মৃত্যুর পর হোটেলের সত্ত্ব পান তার স্ত্রী হেলেনা ভরালি ও তার পরিবার। বছর খানেক আগে হেলেনা ভরালি হোটেলটি পরিচালনার জন্য ঘনকান্ত গগৈ নামের ওই ব্যক্তির কাছে লিজ দেন। বিগত কয়েক মাস ধরে লিজের চুক্তি, বকেয়া টাকা এবং মালিকানার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঘনকান্তের সঙ্গে হেলেনা ভরালি ও তার পরিবারের চরম বিবাদ চলছিল। সোমবার রাতে এই সংক্রান্ত এক সমঝোতা বা আলোচনার সময় বচসা চরম আকার ধারণ করে। মেজাজ হারিয়ে ঘনকান্ত গগৈ তাঁর নিজের ৩২ বোরের পিস্তল বের করে হোটেলের মালিকপক্ষ ও কর্মচারীদের লক্ষ্য করে পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে পাশের পল্টনবাজার এলাকায় আত্মগোপন করার চেষ্টা করে। তবে গুয়াহাটি পুলিশের একাধিক টিম দ্রুত চিরুনি অভিযান চালিয়ে পল্টনবাজার এলাকা থেকেই মূল অভিযুক্ত ঘনকান্তকে গ্রেফতার করে।

পার্থসারথি মহন্ত, আরো জানান"আমরা অএকটি এপরাধে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করেছি এবং মূল অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে হেফাজতে নিয়েছি। নিহতদের ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনার বিশদ ফরেনসিক ও ব্যাালিস্টিক তদন্ত চলছে।"

এম/আই

Link copied!