জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে নতুন সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা না দেওয়া হলে তাদের ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ সদস্যে পরিণত করা হবে বলে মন্তব্য করেছে ভারত। দেশটির দাবি, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার হলে নতুন-পুরোনো সব স্থায়ী সদস্যের অধিকার ও দায়িত্ব সমান হতে হবে। ভেটো ক্ষমতা বহাল থাকলে তা সংস্কার করা পরিষদের সব স্থায়ী সদস্যের হাতেই থাকতে হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনি হরিশ নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতা নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আন্তসরকারি আলোচনায় এ অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ভেটো ক্ষমতা নিয়ে ভারতের অবস্থান নীতিনিষ্ঠ ও সুপরিচিত। যত দিন এই ক্ষমতা থাকবে, তত দিন সংস্কার করা নিরাপত্তা পরিষদের সব স্থায়ী সদস্যেরই তা থাকা উচিত।
পার্বথানেনি বলেন, ভেটো ক্ষমতা ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদি সদস্যদের জন্য আলাদা একটি শ্রেণি তৈরি করে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হলে নতুন সদস্যরা কার্যত ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ মর্যাদা পাবেন। এতে পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসবে না; বরং বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্যের নিয়ন্ত্রণই অক্ষুণ্ন থাকবে।
বর্তমানে ১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্যদেশ হলো চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়ার ক্ষমতা বা ভেটো রয়েছে এই পাঁচ দেশের হাতে। বাকি ১০টি আসনে নির্বাচিত অস্থায়ী সদস্যরা দুই বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করেন।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী- দুই ধরনের সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে। দেশটির মতে, শুধু অস্থায়ী সদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা কার্যত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।
১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদ বর্তমান বিশ্বের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে পারছে না বলে মনে করে নয়াদিল্লি। ভারতের যুক্তি, একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতার সঙ্গে সংগতি রেখে পরিষদকে সংস্কার করা প্রয়োজন। এ সংস্কারের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় সামনের সারিতে রয়েছে ভারত। দেশটি মনে করে, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার যথাযথ দাবি তাদের রয়েছে।
এদিকে ২০২৮-২৯ মেয়াদে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদও চাইছে ভারত। এ মেয়াদের জন্য নির্বাচন হওয়ার কথা আগামী বছরের জুনে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ একটি আসনে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী তাজিকিস্তান।
ভারত সর্বশেষ ২০২১-২২ মেয়াদে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য ছিল। এটি ছিল পরিষদে দেশটির অষ্টম মেয়াদ। এর আগে ১৯৫০-৫১, ১৯৬৭-৬৮, ১৯৭২-৭৩, ১৯৭৭-৭৮, ১৯৮৪-৮৫, ১৯৯১-৯২ এবং ২০১১-১২ মেয়াদে পরিষদে দায়িত্ব পালন করে দেশটি।
সূত্র: এনডিটিভি
