মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

নেতানিয়াহুর ভাগ্যে কী ঘটবে, আজ সেই রায় দেবে ইসরায়েলের মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ১১:১৫ এএম

নেতানিয়াহুর ভাগ্যে কী ঘটবে, আজ সেই রায় দেবে ইসরায়েলের মানুষ

ইসরায়েলের আজ মঙ্গলবারের নির্বাচনে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে ভোট দিতে দেশে ফিরছেন বিদেশে বসবাসকারী হাজার হাজার ইসরায়েলি নাগরিক।
ইসরায়েলে বিদেশ থেকে ভোট দেয়ার অনুমতি নেই। তবে দেশটির কূটনৈতিক মিশনে কর্মরত ব্যক্তিরা এর ব্যতিক্রম। বিদেশে বসবাসকারী ইসরায়েলিদের দেশে ফিরে ভোট দেয়ার ব্যবস্থা করতে সহায়তাকারী একটি গোষ্ঠীর অনুমান অনুযায়ী, মঙ্গলবারের নির্বাচনে ভোট দিতে প্রায় ৮০ হাজার ইসরায়েলি দেশে ফিরতে পারেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমসের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলে ভোট দেয়ার যোগ্য নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৭৩ লাখ।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ইয়ায়েল শোমার বলেন, “যদিও এটি খুব বড় কোনো ভোটারগোষ্ঠী নয়, তবে দেশে ফিরে ভোট দিতে আসতে পারেন এমন ৮০ হাজার মানুষ অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে বড় ধরনের পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।”

২০২২ সালের পর ইসরায়েলে প্রথম এই নির্বাচনে লিকুদ পার্টির বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখোমুখি হচ্ছেন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট। নেতানিয়াহু তিনটি পৃথক মেয়াদে মোট ১৮ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ আইজেনকোট ইয়াশার পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নির্বাচনে জয়ী হতে উভয়কেই সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের সমর্থন নিতে হতে পারে।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭০ শতাংশের সামান্য বেশি। জরিপকারীদের ধারণা, এবার তা বেড়ে ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ইসরায়েলের বাইরে বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে কর্মরত কূটনৈতিক সেবাকর্মীদের মধ্যে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৯০ শতাংশ। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত এই হার ৭০ শতাংশের কাছাকাছি থাকে।

বিদেশে বসবাসকারী ইসরায়েলিদের দেশে ফিরে ভোট দিতে সহায়তা করার জন্য ‘ফ্লাই অ্যান্ড ভোট’ নামে একটি সংগঠন গঠন করা হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘আমেরিকা-ইসরায়েল ডেমোক্রেসি কোয়ালিশন’-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৩ সালে মূলত লিকুদ পার্টির বিচারব্যবস্থা সংস্কারের প্রচেষ্টা ঠেকানোর উদ্দেশ্যে এই জোট গঠন করা হয়েছিল।

ইসরায়েলের ভেতরে বা বাইরে থাকা মানুষের যাতায়াতের খরচ কোনো সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের বহন করা নিষিদ্ধ। তবে এই বিধিনিষেধের মধ্যেও ভোটদানে সহায়তা করার বিকল্প উপায় খুঁজে বের করেছে কোয়ালিশনটি।

এম/আই

Link copied!