সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

সাত খুন, আবরার ও সিনহা হত্যা মামলার আপিল শুনানি নভেম্বরে-ডিসেম্বরে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম

সাত খুন, আবরার ও সিনহা হত্যা মামলার আপিল শুনানি নভেম্বরে-ডিসেম্বরে

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার আপিল শুনানির দিন ঠিক করেছে আপিল বিভাগ।

এর মধ্যে সাত খুনের মামলায় ১৭ নভেম্বর, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২৪ নভেম্বর এবং মেজর সিনহা হত্যা মামলায় ১ ডিসেম্বর দিন ঠিক করা হয়েছে।

রোববার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আপিল বিভাগে নিয়মিত শুনানির জন্য এসব দিন ঠিক করে দেন।

আলোচিত এ তিনটি মামলার আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আদেশের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকে এই সমস্ত আলোচিত মামলা, যে সমস্ত মামলা আমাদের সমাজকে আলোড়িত করেছে, সাধারণ মানুষের বিবেককে আলোড়িত করেছে, এই সমস্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং যাতে নিষ্পত্তি হয় সেজন্যে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।”

এ মামলাগুলোর বিষয়ে সরকারের বিশেষ কোনো চাওয়া-পাওয়ার কারণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের রাষ্ট্রের পক্ষের আইন কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব—এই সমস্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উদ্যোগ গ্রহণ করা। এবং এটা আমরা স্বপ্রণোদিত হয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।”

কাজল বলেন, আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির আবেদন জানিয়েছেন।

নির্ধারিত তারিখে শুনানি শুরু হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালতের বিভিন্ন ব্যস্ততা ও বাস্তবতার কারণে অনেক সময় নির্ধারিত দিনে শুনানি না হলেও মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় এবার নির্ধারিত তারিখেই শুনানি শুরু হবে বলে তারা আশা করছেন।

এ ছাড়া বিশ্বজিৎ হত্যা মামলাটিও খুব শিগগির শুনানির জন্য চেম্বার বিচারপতির কাছে নিয়ে দিন ধার্য করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আপিল ও ক্রিমিনাল আবেদন

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলায় বিভিন্ন আসামির দায়ের করা আপিলের সংখ্যা ২১টি। বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের করা ১৬টি ক্রিমিনাল পিটিশনও রয়েছে।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকার রায়ের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ১৪টি আপিল আদালতের নজরে আনা হয়েছে।

অন্যদিকে, মেজর সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপের করা ক্রিমিনাল আপিল এবং লিয়াকত আলী ও অন্যদের করা ক্রিমিনাল আপিলসহ সংশ্লিষ্ট আপিলগুলো একসঙ্গে আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

শুনানির আগে ‘কনসাইজ স্টেটমেন্ট’ জমাসহ প্রয়োজনীয় পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া ও আইনি গবেষণা সম্পন্ন করতে রাষ্ট্রপক্ষের নির্দিষ্ট আইন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল কাজল।

সাত খুন মামলা

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে অপহরণ করা হয়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে অপহরণের শিকার হন আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তিন দিন পর, ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ছয়জনের এবং পরদিন আরেকজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ মামলায় রায় দেয়।

রায়ে র‍্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন, কমান্ডার এম এম রানাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে হাই কোর্ট বিভাগ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। দণ্ডিত আসামিদের করা সেই আপিল এখন আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনার সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার বিষয়টি মামলায় উঠে আসে।

এ ঘটনায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর রায় দেয়। ওই রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে হাই কোর্ট বিভাগ ২০২৪ সালের ১৬ মার্চ নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে। হাই কোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানির জন্য আগামী ২৪ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

মেজর সিনহা হত্যা মামলা

২০২০ সালের ৩১ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ মামলায় ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত রায় ঘোষণা করে। রায়ে টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাতজনকে খালাস দেওয়া হয়।

পরে ২০২৪ সালের ২ জুন হাই কোর্ট বিভাগ নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে। দণ্ডিত আসামিদের করা সেই আপিলের শুনানির জন্য ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

এম/আই

Link copied!