মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে খুব আশ্চর্যজনকভাবে ইসলামবিদ্বেষের পরাজয় ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সেই রাষ্ট্রের নির্বাচনের একটা প্রতিক্রিয়া সারা পৃথিবীতে পড়ে। এখন পর্যন্ত আজকের নির্বাচনের যে বৈশিষ্ট্য আমি দেখতে পেয়েছি, তা হলো—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে খুব আশ্চর্যজনকভাবে ইসলামবিদ্বেষের পরাজয় ঘটেছে। এটা পৃথিবীর ইতিহাসের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা।’
আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত বছর পেরিয়ে জুলাই সনদ: গণঅভ্যুত্থানের তরুণ অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসলামবিদ্বেষের পরাজয় ঘটেছে বলার দুটো কারণ ব্যাখ্যা করে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘একটি হচ্ছে, এবারকার নির্বাচনে যারা ক্ষমতাসীন ছিলেন—রিপাবলিকান দল—তাদের অধিকাংশ, এমনকি স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পর্যন্ত নির্বাচনের বিভিন্ন রেটরিকে (বক্তব্যে) ইসলামবিদ্বেষ ছড়িয়েছেন, ইসলামফোবিয়া ছড়িয়েছেন। তারা বলার চেষ্টা করেছেন যে এই নির্বাচনের মাধ্যমে ইসলামিস্টদের পরাজিত করতে হবে। এটাই ছিল তাদের পুরো নির্বাচনের অন্যতম প্রধান রেটরিক। আর এই নির্বাচনেই শোচনীয়ভাবে ট্রাম্পের দল পরাজিত হয়েছে। এই পরাজয়ের ফলে আগামী দুই বছর ট্রাম্প দুর্বল (লেম ডাক) প্রেসিডেন্টে পরিণত হবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে আজকের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পেছনে তার ইরান আক্রমণ একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল। তার মানে তিনি পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন যে ইরান আক্রমণ ভুল ছিল।’
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, ‘আমি কিছুক্ষণ পরপর ফলাফলের খবর দেখছিলাম; মিশিগানে যিনি সিনেট নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন, তিনি একজন মুসলিম। এই প্রথম আমেরিকায় কোনো মুসলিম সিনেট নির্বাচনে দাঁড়ালেন এবং এখন পর্যন্ত ৮১ শতাংশ ভোটের রেজাল্ট পাওয়া গেছে, যেখানে দুই লাখেরও বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন আব্দুল আল সাঈদ। তার বিরুদ্ধে আমেরিকার পুরো জায়োনিস্ট এস্টাবলিশমেন্ট এক হয়েছিল। এমনকি একদিন আগে তিনি প্রাইমারিতে ডেমোক্র্যাট পার্টির যাকে পরাজিত করে মনোনয়ন পেয়েছিলেন, সেই ভদ্রমহিলা পর্যন্ত আব্দুল আল সাঈদের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের সমর্থন দিয়েছিলেন। তিনি চাননি আমেরিকায় কোনো মুসলমান সিনেটর নির্বাচিত হোক।’
আমার দেশ সম্পাদক আরও বলেন, এখন আমেরিকায় জেন-জি বিজয় অর্জন করেছে। আমাদের জেন-জিও সফল হয়েছে। তারা বর্তমান বিশ্বের সবথেকে নিষ্ঠুর স্বৈরাচারকে (ক্রুয়েল ডিক্টেটর) পরাজিত করেছে বিনা অস্ত্রে; কোনো দেশের সমর্থন ছাড়া নিজেদের জোরে, ঈমানের জোরে, আল্লাহর রহমতে আমাদের জেন-জি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ডিক্টেটরকে পরাজিত করেছে। সুতরাং তারা সফল হয়েছে। এখন আপনারা বলতে পারেন, তাদের স্বপ্ন পূরণ হয় নাই; তারা রাষ্ট্র মেরামতের যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা পূরণ হয় নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার বলছে, ‘আমি জুলাই সনদের এই এই পার্টে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি, আমি বাধ্য নই এসব মানতে।’ এটা বলার কারণ তারা পার্ট অব এস্টাবলিশমেন্ট। তারা আওয়ামী লীগ না, কিন্তু ১৯৭১ সাল থেকে যে এস্টাবলিশমেন্ট বাংলাদেশ শাসন করছে, সেই এস্টাবলিশমেন্টের অংশ হচ্ছে বর্তমান সরকার। সুতরাং জুলাই সনদ নিয়ে তাদের আপত্তি আছে, কারণ তারা এস্টাবলিশমেন্টের পক্ষে। আর জুলাই সনদ তো এস্টাবলিশমেন্টের বিপক্ষে সনদ। আপনারা প্রথম থেকেই খেয়াল করবেন, তারা জুলাইকে কখনো বিপ্লব বলে নাই। কারণ বিপ্লব বললে এস্টাবলিশমেন্ট থাকে না, বিপ্লব বললে সংবিধান থাকে না। সর্বদা আমি বলেছি এটি জুলাই বিপ্লব; কিন্তু বিপ্লব বলা মাত্রই সংবিধান উড়ে যায়। যেহেতু বর্তমান সরকার এস্টাবলিশমেন্টের অংশ, তাই তারা এটাকে বিপ্লব মানতে কখনো রাজি হয় না; বরং বিপ্লব বললে তারা অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়।’
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন— ‘দ্য ওয়াদা’ সম্পাদক শফিকুল আলম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এবং এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস উদ্দিন খান নোমান প্রমুখ।
