ন্যূনতম ৩০ হাজার মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আজও উত্তাল হয়ে উঠেছে সাভার ও আশুলিয়ার পোশাক শিল্পাঞ্চল। সাভারের উলাইল ও হেমায়েতপুরে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দুপুর পর্যন্ত শতাধিক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
সাভারের সংঘর্ষ চলাকালে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলমের ওপর হামলা করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন গণমাধ্যমকর্মীসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ ও শ্রমিক আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল থেকেই সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকার বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়ে হাজিরা দেওয়ার পর বেরিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে হেমায়েতপুর পদ্মার মোড়ে সংঘর্ষ চলাকালে সাভার মডেল থানার ওসির ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এ সময় একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওসি সাইফুল আলমকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন মিয়া জানান, শ্রমিকদের হামলায় ওসিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের তৎপরতায় সাভারের পরিস্থিতি বর্তমানে পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে এবং যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।
এর আগে সকালে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এবং উলাইলে আল-মুসলিম কারখানার সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যাপক টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়।
সংঘর্ষের খবর সংগ্রহকালে আন্দোলনকারীদের হামলার শিকার হন ৭১ টেলিভিশনের সাভার প্রতিনিধি রায়হান বিন আমিন, ক্যামেরা পারসন উজ্জ্বল হোসেন এবং স্টার নিউজের সাভার প্রতিনিধি সোহান সিরাজি। আহত অবস্থায় তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে সাভার শান্ত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল। বুধবার সকাল থেকেই আশুলিয়ার নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় বিভিন্ন কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন শ্রমিকরা। বেলা আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটের দিকে শ্রমিকরা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাস্তায় নামার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের কারণে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বেশ কিছু সময় বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আশুলিয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে মবিন নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এখন আমাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের আওতাধীন সমস্ত এলাকা স্বাভাবিক আছে। কোথাও কোনো যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা নেই। গার্মেন্টস এলাকাগুলো বেশ শান্ত। সকালবেলা সমস্ত গার্মেন্টসে কাজ শুরু হয়েছিল, অনেকে ঢুকেছিল। পরবর্তীতে তারা অন্য এলাকার বা বহিরাগতদের ইন্ধনে কাজ বন্ধ করে। সাভার এলাকায় আল-মুসলিম থেকে পদ্মার মোড় পর্যন্ত রাস্তায় তারা পিকেটিং করার চেষ্টা করেছিল। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে রাস্তার প্রতিবন্ধকতা দূর করেছি। এই মুহূর্তে আমাদের এলাকা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। ঢাকা জেলা পুলিশ ও আমরা একসঙ্গে কাজ করছি, সাথে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
