শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬

এলডিসি উত্তরণের পরও জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম

এলডিসি উত্তরণের পরও জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক অভিযোজন সহায়তা ও ন্যায্য জলবায়ু অর্থায়ন অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালকে (বিবিএন) জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় অভিন্ন অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ সামনে রেখে শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
‘এলডিসি উত্তরণের বৈপরীত্য ও বিবিএন অঞ্চলের জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা: জাতিসংঘ জলবায়ু কাঠামোর আওতায় ঝুঁকিভিত্তিক অভিযোজন কৌশলের জরুরি প্রয়োজন’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি)। সহযোগিতায় ছিল ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশ (সিজেএ-বি), উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলন, ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম, শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটিসহ বিভিন্ন নাগরিক ও উন্নয়ন সংস্থা।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী ও সিজেএ-বির সমন্বয়ক মো. শামসুদ্দোহা। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন কিংবা এলডিসি উত্তরণের অগ্রগতি কোনো দেশের জলবায়ু ঝুঁকি কমিয়ে দেয় না। ভুটান ইতোমধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণ করেছে। বাংলাদেশ ও নেপালও উত্তরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। কিন্তু তিনটি দেশই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
তিনি বলেন, হিমবাহ গলে যাওয়া, মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তন, নদীর প্রবাহে পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, তাপপ্রবাহ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা—এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় তিন দেশের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিআরডির গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি কর্মসূচির ব্যবস্থাপক সুমাইয়া বিনতে আনোয়ার। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রচলিত উন্নয়ন শ্রেণিবিন্যাসের পরিবর্তে দেশগুলোর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জলবায়ু ঝুঁকিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম বলেন, এলডিসি উত্তরণকে জলবায়ু ঝুঁকি থেকে উত্তরণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। উন্নত দেশ ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিযোজন সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।
ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সভাপতি আমিনুর রসুল বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অভিযোজনের প্রয়োজন ও বেঁচে থাকার অধিকারকে উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থ কিংবা প্রশমন অগ্রাধিকারের কাছে জিম্মি করা যাবে না।
উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী আঞ্চলিক ঐক্য ও সরকার-নাগরিক সমাজের সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ বলেন, অর্থনৈতিক উত্তরণের সঙ্গে জলবায়ু ঝুঁকিকে এক করে দেখা যাবে না। আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে অনুদানভিত্তিক অভিযোজন অর্থায়নকে প্রধান দাবি হিসেবে তুলে ধরতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে কপ-৩১ ও পরবর্তী আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো—বিশ্ব জলবায়ু আলোচনায় অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া, এলডিসি উত্তরণের পরও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের মধ্যে অভিন্ন আঞ্চলিক জলবায়ু কৌশল ও সমন্বিত দর-কষাকষির অবস্থান গড়ে তোলা।

জেএইচ

Link copied!