শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬
আনসার ডিজি

জাতীয় স্বার্থ ও জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

জাতীয় স্বার্থ ও জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে

জাতীয় স্বার্থ, জননিরাপত্তা ও জনকল্যাণকে সব কর্মকাণ্ডের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, নাশকতা ও উসকানি প্রতিহত করে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিরপেক্ষতা, সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত দরবার অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আনসার ডিজি।

আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং সম্মিলিত আত্মজাগরণের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার সম্মিলিত সংহতির প্রকাশ ঘটেছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় এবং জাতীয় ঐক্যের চেতনা বিকশিত হয়েছিল, যা জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে।

তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এ দিবসের অন্যতম শিক্ষা হলো জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক আস্থা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে যেকোনো সংকট ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকে নবজীবন দিয়েছে।

আনসার বাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’ বা গণপ্রতিরক্ষা দর্শনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) জনগণের অংশগ্রহণমূলক প্রতিরক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কাঠামো। এ দর্শনের ধারাবাহিকতায় বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ সদস্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নগরজীবন পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক শৃঙ্খলা, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।

আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, বাহিনীর ভূমিকা কেবল নিরাপত্তার দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান, আর্থিক স্বাবলম্বিতা ও সামাজিক রূপান্তরেও আনসার ও ভিডিপি নিরলসভাবে কাজ করছে।

বাহিনীর উন্নয়ন ও সদস্যকল্যাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে-বিদেশে বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুনাম অর্জন করছে। এর মাধ্যমে সদস্যদের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশেষ করে ভিডিপি সদস্যদের জীবনমান উন্নয়ন, আর্থিক স্বাবলম্বিতা ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন আনসার ডিজি। এ ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ ও কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ায় প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। একইসঙ্গে বাহিনীর ভিত্তি সুসংহতকরণ ও অগ্রযাত্রায় অবদানের জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আনসার সদস্যদের জীবন ও কর্মপরিকল্পনাকে ‘কমপ্লিট প্যাকেজ অব লাইফ’ হিসেবে উল্লেখ করে আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, আত্মোৎসর্গ, কর্মনিষ্ঠ, দায়িত্ববোধ, দক্ষতা অর্জন ও আর্থিক স্বাবলম্বিতার সমন্বয়েই একজন সদস্যের পরিপূর্ণ জীবন গড়ে ওঠে। প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, আর্থিক সহযোগিতা, সামাজিক নিরাপত্তা ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সদস্যদের জন্য একটি সমন্বিত জীবনব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ দর্শনের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলে ব্যক্তি, পরিবার, বাহিনী ও রাষ্ট্র, সব পর্যায়েই ইতিবাচক সুফল পাওয়া সম্ভব।

শেষে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মহাপরিচালক। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক, দক্ষ, জনবান্ধব ও মানবিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সদস্যদের শৃঙ্খলাবোধ, আনুগত্য, দেশপ্রেম, সততা ও আত্মত্যাগের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে সদর দপ্তরসহ সারা দেশে বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। সদর দপ্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ, দরবার এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদসহ সদর দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জেএইচ

Link copied!