জাতীয় স্বার্থ, জননিরাপত্তা ও জনকল্যাণকে সব কর্মকাণ্ডের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, নাশকতা ও উসকানি প্রতিহত করে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিরপেক্ষতা, সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত দরবার অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আনসার ডিজি।
আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং সম্মিলিত আত্মজাগরণের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার সম্মিলিত সংহতির প্রকাশ ঘটেছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় এবং জাতীয় ঐক্যের চেতনা বিকশিত হয়েছিল, যা জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে।
তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এ দিবসের অন্যতম শিক্ষা হলো জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক আস্থা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে যেকোনো সংকট ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকে নবজীবন দিয়েছে।
আনসার বাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’ বা গণপ্রতিরক্ষা দর্শনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) জনগণের অংশগ্রহণমূলক প্রতিরক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কাঠামো। এ দর্শনের ধারাবাহিকতায় বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ সদস্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নগরজীবন পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক শৃঙ্খলা, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, বাহিনীর ভূমিকা কেবল নিরাপত্তার দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান, আর্থিক স্বাবলম্বিতা ও সামাজিক রূপান্তরেও আনসার ও ভিডিপি নিরলসভাবে কাজ করছে।
বাহিনীর উন্নয়ন ও সদস্যকল্যাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে-বিদেশে বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুনাম অর্জন করছে। এর মাধ্যমে সদস্যদের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষ করে ভিডিপি সদস্যদের জীবনমান উন্নয়ন, আর্থিক স্বাবলম্বিতা ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন আনসার ডিজি। এ ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ ও কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ায় প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। একইসঙ্গে বাহিনীর ভিত্তি সুসংহতকরণ ও অগ্রযাত্রায় অবদানের জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আনসার সদস্যদের জীবন ও কর্মপরিকল্পনাকে ‘কমপ্লিট প্যাকেজ অব লাইফ’ হিসেবে উল্লেখ করে আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, আত্মোৎসর্গ, কর্মনিষ্ঠ, দায়িত্ববোধ, দক্ষতা অর্জন ও আর্থিক স্বাবলম্বিতার সমন্বয়েই একজন সদস্যের পরিপূর্ণ জীবন গড়ে ওঠে। প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, আর্থিক সহযোগিতা, সামাজিক নিরাপত্তা ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সদস্যদের জন্য একটি সমন্বিত জীবনব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ দর্শনের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলে ব্যক্তি, পরিবার, বাহিনী ও রাষ্ট্র, সব পর্যায়েই ইতিবাচক সুফল পাওয়া সম্ভব।
শেষে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মহাপরিচালক। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক, দক্ষ, জনবান্ধব ও মানবিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সদস্যদের শৃঙ্খলাবোধ, আনুগত্য, দেশপ্রেম, সততা ও আত্মত্যাগের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে সদর দপ্তরসহ সারা দেশে বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। সদর দপ্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ, দরবার এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদসহ সদর দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
