শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬

তাহসিফ হত্যা মামলা: রিমান্ড শেষে কারাগারে দীপ

আদালত প্রতিবেদক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

তাহসিফ হত্যা মামলা: রিমান্ড শেষে কারাগারে দীপ

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

এদিন তিন দফায় ১০ দিনের রিমান্ড শেষে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী মুতাসিম বিল্লাহ জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে নৌ পুলিশ বলছে, আসামি দীপ মামলার ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা তদন্তের স্বার্থে গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। দীপ অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে একাধিক প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে যান এবং চুপ ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় ৩০ অক্টোবর রাতে মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

গত ৩১ অক্টোবর প্রথম দফায় তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৩ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের এবং ৫ নভেম্বর তৃতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

এ ছাড়া গত ১ নভেম্বর এই মামলায় আরেক আসামি জেরিকা তাসনিম দিশার চার দিন এবং ৪ নভেম্বর আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর তাঁর ছেলে কে এম তাহসিফ সাউরি আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার পর দীপ নামে তাঁর এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বাইরে যান। রাত বেশি হলেও ছেলে ফিরে না আসায় তাঁর মা বারবার ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরবেন। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তাঁর ফোন থেকে মায়ের ফোনে ভয়েস বার্তা পাঠান, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। কিন্তু রাত পেরিয়ে পরদিন বিকেল হলেও তিনি ফিরে আসেননি।

২৮ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটে উত্তরখান থেকে নৌ পুলিশ ফোনের মাধ্যমে তাঁকে জানায়, রাজাবাড়ী ঘাট-উত্তরখান এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তাঁর সন্তানের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এরপর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯ অক্টোবর দুপুরে নৌ পুলিশ তাঁর কাছে সন্তানের মরদেহ হস্তান্তর করে। প্রয়োজনীয় ধর্মীয় রীতি সম্পন্ন করে ২৯ অক্টোবর বিকেলে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

দৈনিক মুক্তবাণী

Link copied!