অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ২-০ গোলে হারের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কর্তাদের কড়া সমালোচনা করেছেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে দলকে শক্তিশালী করতে যথেষ্ট বিনিয়োগ না করায় বিশেষ করে ক্লাবের ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্সকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। একই সঙ্গে কোচ মাইকেল ক্যারিকের পাশে দাঁড়িয়ে তার ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দিয়েগো সিমিওনের অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে এই হার নিয়ে পাঁচ ম্যাচে তৃতীয়বার পরাজয়ের স্বাদ পেল ইউনাইটেড। অন্যদিকে, ক্যারিকের অধীনে শেষ সাত ম্যাচে মাত্র একটিতে জিতেছে দলটি। এমন পরিস্থিতিতে সাবেক এই মিডফিল্ডারের ভবিষ্যৎ নিয়েও বাড়ছে অনিশ্চয়তা ।
তবে মার্তিনেজের মতে, দলের ব্যর্থতার দায় শুধু কোচ কিংবা খেলোয়াড়দের ওপর চাপানো ঠিক নয়। ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
মাদ্রিদে ম্যাচ শেষে অ্যামাজন প্রাইমকে মার্তিনেজ বলেন, ‘খুবই খারাপ। সত্যিই খুব খারাপ। নিজেকে অনেক নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। তবে কখনো কখনো আমাদের ক্লাব এখন কোন অবস্থায় আছে, এই পরিস্থিতি তারই প্রতিফলন।’
গত মৌসুমে দল ভালো করায় এবার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা করেছিলেন বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘গত মৌসুমে আমরা দারুণ একটি মৌসুম কাটিয়েছি। এবার ওপরের মহল থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা ছিল। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আরও খেলোয়াড় দরকার ছিল, কারণ অনেক দলই নতুন খেলোয়াড় এনেছে।’
গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ইউনাইটেডের প্রায় ১৫ কোটি পাউন্ড খরচের বিষয়টি সামনে এনে মার্তিনেজ বলেন, ‘আমি আরও বিনিয়োগ আশা করেছিলাম। শতভাগ নিশ্চিতভাবেই। আমাদের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর জেসন উইলকক্সের কাছ থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা ছিল। সত্যি বলতে, খেলোয়াড় হিসেবে আমাদেরও আরও ভালো করতে হবে। তবে এমন ম্যাচের জন্য প্রস্তুত একটি শক্তিশালী দল গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।’
ক্যারিকের ওপর চাপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আরও সরাসরি ক্লাব কর্তাদের দিকে আঙুল তোলেন মার্তিনেজ। তিনি বলেন, ‘আপনি বারবার কোচ পরিবর্তন করতে পারেন না। অন্য বিভাগগুলোর কী হবে?’
এরপর ওপরের দিকে ইঙ্গিত করে এই ডিফেন্ডার যোগ করেন, ‘আজ কোচকে দোষ দেওয়া সহজ, খেলোয়াড়দের দোষ দেওয়াও সহজ। কিন্তু অন্য দিকগুলোও আমাদের দেখতে হবে।’
ক্যারিকের কাজের প্রশংসা করে মার্তিনেজ বলেন, ‘তিনি নিজের সর্বোচ্চটা দিচ্ছেন। প্রতিটি মৌসুম আলাদা। গত মৌসুমে যা করেছেন, শুধু সেটি ধরে রাখলে চলবে না। প্রতিপক্ষ এখন জানে আপনি কীভাবে খেলেন, আপনার কৌশলের প্রতিটি দিক তাদের জানা। পরের মৌসুমে পরিবর্তন না আনলে বড় সমস্যা হবে।’
ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডারের মতে, গত মৌসুমে দল একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছিল। কিন্তু অ্যাটলেটিকোর মাঠে এসে দলকে সেরা ফলের জন্য লড়াই করতে না দেখায় হতাশ হয়েছেন তিনি।
মার্তিনেজের মন্তব্য নিয়ে পরে প্রশ্ন করা হলে ক্যারিক জানান, তিনি এখনো সাক্ষাৎকারটি দেখেননি। তাই এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
ইউনাইটেড কোচ বলেন, ‘এমন একটি ম্যাচের পর এখানে এসে ফল থেকে কিছু পাওয়ার চেষ্টা করেও হতাশ হতে হয়। তখন আবেগ কাজ করতে পারে। আমি এখনো কথাগুলো দেখিনি, তাই এই মুহূর্তে মন্তব্য করাটা ঠিক হবে বলে মনে করি না।’
দলের ঐক্যের ওপর আস্থা প্রকাশ করে ক্যারিক আরও বলেন, ‘আমরা সবাই ক্লাবকে নিয়ে ভাবি, তবে সেটা ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রকাশ করি। এখন একসঙ্গে থেকে পরিস্থিতি সামলে ওঠার সময়। খেলোয়াড়দের একতা কিংবা জেতার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। খেলোয়াড়েরা দারুণ চেষ্টা করেছে, কিন্তু ফল আমাদের পক্ষে আসেনি।’
মাঠের ব্যর্থতার পাশাপাশি দলবদলে বিনিয়োগ ও ক্লাব পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সংকট এখন আরও গভীর। ক্যারিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার মধ্যে মার্তিনেজের এই বিস্ফোরক মন্তব্য ওল্ড ট্রাফোর্ডের কর্তাদের ওপরও চাপ বাড়াবে বলে মনে হচ্ছে।
