সান্তিয়াগো বার্নাবেউতে নয়নাভিরাম ও নান্দনিক সব গোলের ওপর ভর করে সেভিয়াকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের ঘরের মাঠে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে জোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ। কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোল, আর্দা গ্যুলারের বাঁ পায়ের জাদুকরী শট এবং ইয়ান দিওমান্দের একক প্রচেষ্টার দর্শনীয় গোলেই জয় নিশ্চিত করে লস ব্লাঙ্কোসরা।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস (২১ এপ্রিলের পর) ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকা ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার এদের মিলিতাও বদলি হিসেবে মাঠে নামলে বার্নাবেউর গ্যালারি তাঁকে দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানায়। একই সাথে স্বাগতিক দর্শকরা লা লিগা সভাপতি হাভিয়ার তেবাস, বার্সেলোনা সভাপতি লাপোর্তা ও নেগ্রেইরা কেসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর স্লোগান দেয়।
আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে ভরপুর ম্যাচের ৩০তম মিনিটে দারুণ এক প্রতিআক্রমণ থেকে গোলের খাতা খোলে রিয়াল। জুড বেলিংহ্যামের শুরু করা কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দিওমান্দে হয়ে বল পান আর্দা গ্যুলার। বক্সের প্রান্ত থেকে বাঁ পায়ের জোরালো নিখুঁত বাঁকানো শটে সেভিয়া গোলরক্ষক ভ্লাচোডিমোসকে পরাস্ত করে বার্নাবেউকে আনন্দে ভাসান এই তুর্কি প্রতিভাবান।
এর সাত মিনিট পরই (৩৭ মিনিটে) দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় রিয়াল। বর্ডারের কাছে বেলিংহ্যামের ব্যাকহিল পাস ধরে দারুণ এক ড্রিবলিঙে সেভিয়ার ডিফেন্ডার সালাসকে কাটিয়ে এবং গোলরক্ষক ভ্লাচোডিমোসকে ফাঁকি দিয়ে অনায়াসে বল জালে পাঠান কিলিয়ান এমবাপে।
দ্বিতীয়ার্ধে ৬০ মিনিটে সেভিয়ার জোয়াও ফেলিক্সের একটি অ্যাক্রোবেটিক শট গোললাইন থেকে ফেদে ভালভার্দে হেড করে ক্লিয়ার করলে বেঁচে যায় রিয়াল। এর তিন মিনিট পরই বক্সে কাসত্রিনের ফাউলের শিকার হন এমবাপে। নিজেই পেনাল্টি শট নিয়ে দৃষ্টিনন্দন `পানেঙ্কা` স্টাইলে গোল করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
৮০তম মিনিটে সেভিয়ার হয়ে মানু বুয়েনো এক গোল শোধ করলেও তার দুই মিনিট পরেই একক দূরন্ত দৌড়ে সব প্রতিরোধ ভেঙে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের বুলেট গতির শটে ৪-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন ইয়ান দিওমান্দে।
এই জয়ের ফলে চলতি মৌসুমে সান্তিয়াগো বার্নাবেউতে অনুষ্ঠিত ৬টি ম্যাচের সবকটিতেই জয় পাওয়ার অনন্য রেকর্ড বজায় রাখল মরিনহোর দল।
