সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

এমন অস্থিরতা কি এবারই প্রথম?’পাল্টা প্রশ্ন সিমন্সের

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম

এমন অস্থিরতা কি এবারই প্রথম?’পাল্টা প্রশ্ন সিমন্সের

বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটা বিষয় খুবই ধারাবাহিক, যে কোনো বড় টুর্নামেন্ট বা গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে মাঠের বাইরে নানা অস্থিরতা। বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগেও এমনই অস্থির সময় যাচ্ছে। সিরিজ শুরুর মাত্র ৩ দিন আগে ব্যাটিং কোচকে সরিয়ে দেওয়া, ক্রিকেটার-কোচদের সঙ্গে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের রুদ্ধদ্বার বৈঠক!

সবমিলিয়ে চারদিকে যেন গুমোট পরিবেশ বিরাজ করছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই সিরিজ জিতলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে ক্রিকেটারদের দায়বদ্ধতা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। কয়েক দিন আগেই আরব আমিরাতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে ভরাডুবির পর উথাল হয়ে উঠেছে দেশের ক্রিকেট। 

তবে এসবকে খুব একটা পাত্তা দিতে রাজি নন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। বরং সংবাদ সম্মেলনে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে মনে করিয়ে দিলেন, ম্যাচের আগে এমন অস্থিরতা বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন নয়।

সোমবার মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে মোহাম্মদ আশরাফুলকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা এবং খেলোয়াড়দের দায়বদ্ধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন সামনে রেখে সিমন্সকে জিজ্ঞেস করা হয়, এমন গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে এসব পরিস্থিতি তিনি প্রত্যাশা করেন কি না?

জবাবে সিমন্স বলেন, ‘আপনি আমার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে আছেন। বিশ্ব ক্রিকেটও আমার চেয়ে বেশি সময় ধরে দেখছেন। একটি ম্যাচের আগে কি এই প্রথম এমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে?’

বাইরের আলোচনা নিয়ে পড়ে থাকতে চান না সিমন্স। তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, দল কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করছে। কোচের মতে, গত তিন-চার দিন অনুশীলনে থাকা ক্রিকেটাররা ভালো কাজ করেছেন। এখন সাদা বলের ক্রিকেট খেলে আসা সদস্যরা যোগ দেওয়ায় পুরো দলকে একসঙ্গে গুছিয়ে নেওয়ার পালা।

সিমন্স বলেন, ‘প্রতিটি সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই বছরের চক্রের শুরুতে আমরা যে সিরিজগুলো খেলেছি, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আসল বিষয় হলো, আমরা নিজেদের কাজ কীভাবে করছি এবং সিরিজের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমার মনে হয়, গত তিন-চার দিনে এখানে থাকা খেলোয়াড়েরা দারুণ কাজ করেছে। এখন পুরো দল একসঙ্গে যোগ দিচ্ছে। পরবর্তী দুই দিনে আমরা কী করি, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে কী ঘটছে, সেটি নয়; দল হিসেবে প্রস্তুতির জন্য আমরা কী করছি, সেটিই আসল।’

প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অবশ্য বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরিস্থিতি এক নয়। ক্যারিবীয়রা বাংলাদেশে এসে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে। অন্যদিকে ত্রিদেশীয় সিরিজের ব্যস্ততার কারণে বাংলাদেশের সব ক্রিকেটারকে একসঙ্গে অনুশীলনে পাওয়ার সুযোগ হয়েছে অল্প সময়ের জন্য। সিমন্সও স্বীকার করেছেন, পুরো দলকে একসঙ্গে না পাওয়াটা আদর্শ পরিস্থিতি ছিল না। তবে তার যুক্তি, ক্রিকেটাররা এই সময়ের মধ্যে খেলার মধ্যেই ছিলেন।

টাইগার হেড কোচ বলেন, ‘সিরিজের মাঝপথে থাকায় আমরা পুরো দলকে একসঙ্গে পাইনি। আমাদের কয়েকজন ক্রিকেটার ওয়ানডে ও টেস্ট—দুই সংস্করণেই খেলেন, তারা ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই এটাকে আদর্শ পরিস্থিতি বলা যায় না। তবে খেলোয়াড়েরা বসে ছিলেন না, তারা ক্রিকেট খেলছিলেন। এখন পরবর্তী দুই দিনে পুরো দলকে একসঙ্গে নিয়ে প্রস্তুতি গুছিয়ে নিতে হবে।’ 

 

এম/আই

Link copied!