ঘরের মাঠে চলমান সাফে ট্রফির দিকে চোখ রেখেই অভিযানে নেমেছে বাংলাদেশ। হামজা, তপু, ফারহানদের ছাড়া ভুটানের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় দিয়ে টুর্নামেন্টে যাত্রা করেছে তারা। প্রথম ম্যাচ জেতায় বাংলাদেশ দলের স্পিরিট অনেক বেড়েছে। আগামী সোমবার ইংল্যান্ড থেকে উড়ে ঢাকায় আসছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা হামজা চৌধুরী ও ফারহান। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় যোগ দিলে দলের স্পিরিট আরো বেড়ে যাবে বলে মনে করে শেখ মোরসালিন।
গত সাফে খেলেই তারকা বনে গেছেন এই ফুটবলার। এবার এই তরুণ মনে-প্রাণে চাইছেন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নিজেদের করে নিতে। মোরসালিন বলেন, ‘গত যে সাফ ছিল, ওইটা থেকে আমার ক্যারিয়ার শুরু। কিন্তু আমরা ট্রফি নিতে পারিনি। তাই আমি মনে-প্রাণে চাচ্ছি যে, যেভাবে হোক এবার আমি ট্রফি নিতে চাই। স্পেশালি এটা আমার ইচ্ছা ছিল। এখনো আছে। আমি আমার জায়গা থেকে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব, যদি সুযোগ পাই। আর অবশ্যই তো আমাদের এবার ট্রফি নিতেই হবে। আমাদের ঘরের মাঠে খেলা। সো ওইটাই আমাদের সবারই টার্গেট এখন।’
বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এই ম্যাচ সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুত করছে স্বাগতিকরা। গতকাল অনুশীলনের ফাঁকে মোরসালিন বললেন, ‘হামজা ভাই, ফারহান—ওরা আসলে আমাদের মানে টিমের যে স্পিরিট ছিল, আমরা আশা করছি স্পিরিট আরো বাড়বে ইনশাল্লাহ।’ ভুটানের বিপক্ষে কী কারণে দলে ছিলেন না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তরুণ ফরোয়ার্ড মোরসালিন জানান, ‘আসলে ইনজুরি নয়, আমার একটু জ্বর ছিল। আরো চার-পাঁচ দিন আগে আমি রিকভার করেছি। তাই এখন একদম শতভাগ ফিট আমি। আশা করছি, আমি সুযোগ পেলে ভালো করব।’
প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে শ্রীলঙ্কা। কেননা তাদের দলে বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়ে ঠাসা। বর্তমান শ্রীলঙ্কা দল নিয়ে কতটুকু ধারণা আছে আপনাদের? মোরসালিন বলেন, ‘এ নিয়ে আমি একমত যে, শ্রীলঙ্কা দলটি সত্যি খুবই ভালো। তো আমরা হালকাভাবে নিচ্ছি না। আমরা ওইভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেহেতু আমরা প্রথম ম্যাচ জিতেছি, আমাদের আত্মবিশ্বাস এখন ভালো। সবাই ভালো একটা ফেজে আছে। আমরা আশা করছি আমরা জিতব এবং জেতার জন্যই আমরা পরবর্তী ম্যাচ খেলবো ইনশাল্লাহ।’
বর্তমান বাংলাদেশ দলটিও প্রবাসী খেলোয়াড়ে ভরপুর। আসন্ন ম্যাচে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা দলের প্রবাসী ফুটবলারদের মধ্যে আলাদা একটা লড়াই দেখা যেতে পারে। তবে এভাবে বিষয়টি ভাবছেন না মোরসালিন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের প্লেয়ারের সঙ্গে ওদের আসলে তুলনা করতে চাই না। আমরা মনে করি, ওরা অবশ্যই ভালো। আর আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের টিমও খুব ভালো। তাই আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী যে আমরা জিতব।’
বাংলাদেশ দলে স্ট্রাইকারের সংকট। দলে সুযোগ পেলে নিজের সর্বোচ্চটা নিংড়ে দিতে চান মোরসালিন। তিনি বলেন, ‘আমি যখনই যেখানে যতটুকু সুযোগ পাই, সব সময় চেষ্টা করি শতভাগ দেওয়ার। যদি সুযোগ পাই আমি আমার জায়গা থেকে সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করব।’ গত ম্যাচে আরো বড় ব্যবধানে ভুটানকে হারাতে পারত বাংলাদেশ। সুযোগ মিস হওয়ায় প্রত্যাশিত গোল পায়নি স্বাগতিকরা। মোরসালিন মনে করেন, এক দিক থেকে ভালোই হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভালো হয়েছে যে অনেক সময় হয় যে অনেক বেশি গোল দিয়ে ফেললে বডি রিল্যাক্স হয়ে যায়। সো আমি মনে করি ওই দিক থেকে যে না আমাদের ওই মানে আমরা এখনো সবাই খুব হাঙ্গার হয়ে আছে।’
এদিকে ইনজুরির কারণে গত ম্যাচে খেলতে পারেননি অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। তবে ইনজুরি কাটিয়ে পরবর্তী ম্যাচে খেলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ অধিনায়ক। টিম ম্যানেজমেন্টের প্রত্যাশা, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে পাওয়া যাবে তাকে।
