জার্মান পর্যটক ক্রিল লেন্ডার উইবারের চুরি যাওয়া সেই ব্যাগ নিয়ে আর কোনো তথ্য দিতে পারছে না পুলিশ। এদিকে, ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে ঢাকা ছেড়ে যাবেন বলে কালবেলা অনলাইনকে জানিয়েছেন। এক দিনের মধ্যে ব্যাগে থাকা ল্যাপটপ ও ক্যামেরা হয়তো ফেরত পাবেন না বলে শঙ্কা তার।
ক্রিল রাজশাহী ও নাটোর পুলিশের তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও সিসিটিভির কোয়ালিটি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে এই প্রতিবেদককে হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনে বলেন, ‘পুলিশ চেষ্টা করছে। কিন্তু কবে ফেরত পাব জানি না। সিসিটিভির ফুটেজ আরও পরিষ্কার হলে হয়তো চোরকে চিনতে সহজ হতো। সিসিটিভির ফুটেজ এমন হবে কেন?’
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখতে বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে বগুড়া থেকে ট্রেনে নাটোর রেলস্টেশনে পৌঁছান ক্রিল। সেখানে রেলস্টেশনের ওয়েটিং রুমে তার ব্যাগ চুরি হয়।
ক্রিলের ভাষ্য, হলুদ কটি পরা এক ব্যক্তি নিজেকে রেলের স্টাফ পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। পরে টিকিট কাটতে যাওয়ার সময় সরল বিশ্বাসে ওই ব্যক্তির কাছে ব্যাগ রেখে যান তিনি। ফিরে এসে দেখেন, ব্যাগসহ ওই ব্যক্তি আর সেখানে নেই।
হারানো ব্যাগে ম্যাকবুক, ক্যামেরাসহ ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী থাকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি। থানায় জিডি করার সময় তাকে কাঁদতে দেখা যায়। এই খবরে নাটোরের প্রশাসন ও সাংবাদিকেরা তার পাশে দাঁড়ান।
ট্রেন থেকে ক্রিলের ব্যাগ চুরি হওয়ার পর নাটোর পুলিশ উদ্ধার অভিযানে নামে। নাটোর রেলওয়ে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এক সন্দেহভাজন যুবকের গতিবিধি শনাক্তের দাবি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু ব্যাগ আর পাওয়া যায়নি। ওই রাতে ক্রিলকে নাটোর থেকে রাজশাহী পাঠানো হয়।
রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইন্সপেক্টর হাফিজুর রহমান শনিবার রাতে কালবেলাকে বলেন, ‘জার্মান পর্যটকের চুরি হওয়া ব্যাগ উদ্ধারে বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। সন্দেহভাজন যুবকের ছবি পাওয়া গেছে। তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং ব্যাগ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। একপর্যায়ে রাতে রাজশাহীতে ব্যাগটির অবস্থান শনাক্ত হলেও অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরদিন সকালে নাটোরের আব্দুলপুরে সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত হয়। এরপর আর অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনাটি নাটোরে হওয়ায় সেখানে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। রাজশাহীতে অবস্থান শনাক্ত হওয়ায় রেলওয়ে পুলিশ অভিযানে সহায়তা করছে।’
এই কর্মকর্তা জানান, সান্তাহার, পাকশী রেলওয়ে পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ, ডিবি, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও এসআরবি সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এত চেষ্টার পরও চোরকে ধরতে না পারার কারণ হিসেবে কর্মকর্তারা বলছেন, সিসিটিভি ফুটেজ কিছুটা অস্পষ্ট। এছাড়া সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনার পর দ্রুত একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করেন।
ক্রিলকে ইতিমধ্যে মুক্তি মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি নতুন আরেকটি ম্যাকবুক উপহার দিয়েছেন। বাংলাদেশিদের কাছ থেকে এমন আতিথেয়তা পেয়ে তিনি আপ্লুত। তবে নিজের ল্যাপটপে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস থাকায় তিনি এখনো হতাশ।
ক্রিল জানিয়েছেন, ভারত হয়ে তিনি পাকিস্তান যাবেন। নিজ দেশ জার্মানিতে ফিরতে ফিরতে তার কয়েক মাস লেগে যাবে।
