নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১৪৫ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। তাদের মধ্যে একজনকে সামারি ট্রায়ালের জন্য আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি ১৪৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গত ১১ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ১২ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানায় ১৫ জন, কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১১ জন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৩৬ জন, সেনবাগ থানায় চারজন, চরজব্বর থানায় আটজন, সোনাইমুড়ী থানায় চারজন, চাটখিল থানায় চারজন এবং কবিরহাট থানায় ১২ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়।
এ ছাড়া হাতিয়া থানায় ৫১ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে সামারি ট্রায়ালের আওতায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি ৫০ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।
নোয়াখালী জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের জন্য সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতামূলক ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ এবং কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধে নোয়াখালী জেলা পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং অন্যদের মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা দমন, অপরাধপ্রবণতা রোধ এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করতে আইনানুগ পদক্ষেপের পাশাপাশি পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কিশোরদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
