বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে উৎসবের আমেজ খুলনা

খুলনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১০:০১ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে উৎসবের  আমেজ খুলনা

 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে খুলনাজুড়ে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বিভিন্ন স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে তৈরি করা হচ্ছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। কর্মসূচির সার্বিক প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে দফায় দফায় অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিএনপির নেতারা।

আগামী ৫ নভেম্বর খুলনায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও নির্ধারিত কর্মসূচি সফল করতে মহানগর ও জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি যৌথভাবে সংবর্ধনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে প্রতিদিনই চলছে সভা, বর্ধিত সভা ও মতবিনিময়। তবে অপ্রয়োজনীয় ব্যানার-ফেস্টুন ও তোরণ নির্মাণের পরিবর্তে পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, রূপসার কুদির বটতলা থেকে রূপসা বাইপাস সড়ক হয়ে শেরেবাংলা রোড, পাওয়ার হাউস মোড় অতিক্রম করে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেবেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি পুরো পথজুড়ে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর দুপুর ২টার পর বাগেরহাট সফর শেষে খুলনায় প্রবেশ করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণমূলক প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করবেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে খুলনা ত্যাগ করার কথা রয়েছে তাঁর। সে হিসাবে প্রায় আড়াই ঘণ্টা খুলনায় অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি প্রস্তুতি চলছে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম ঘিরে। সেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে অনুষ্ঠানের মঞ্চ। সাজানো হচ্ছে অনুষ্ঠানস্থল। সার্বিক প্রস্তুতির অগ্রগতি দেখতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াত ও অনুষ্ঠানস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, প্রবেশপথ ও অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সফর ও কর্মসূচি নির্বিঘ্ন করার প্রস্তুতি চলছে।

খুলনা জেলা যুবদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান জনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরজুড়ে প্রস্তুতির ব্যস্ততা চলছে। রাজনৈতিক মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও সফরটি যেন শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সেটিই তাঁদের প্রত্যাশা। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি, জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল এমপি, মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ ছাড়া মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সুমন, জেলা যুবদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান জনি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ইস্তিয়াক আহমেদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, রূপসার কুদির বটতলা থেকে জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত পুরো পথজুড়ে খুলনাবাসীর অভিনন্দন ও পুষ্পবৃষ্টিতে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করা হবে। এ আয়োজন ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। শৃঙ্খলা রক্ষা ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তোরণ-ব্যানারে শহর না ঢেকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব খুলনা গড়ার বার্তা তুলে ধরতে চান তাঁরা।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের অন্যতম আকর্ষণ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর। ওই দিন খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় প্রতিযোগিতাটির উদ্বোধন করা হবে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের আসরে অংশ নিতে অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন। প্রথম আসরে নিবন্ধিত প্রতিযোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার। নিবন্ধিত প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও বিকাশে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন ক্রীড়াবিদ তুলে আনার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলবে এই প্রতিযোগিতা।

সব মিলিয়ে এখন খুলনাবাসীর অপেক্ষা ৫ নভেম্বরের। প্রধানমন্ত্রীর আগমন, তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক আয়োজন এবং দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর উদ্বোধন—সবকিছু মিলিয়ে দিনটি ঘিরে নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। খুলনাবাসীর প্রত্যাশা, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং এই আয়োজন খুলনার জন্য ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনবে।
 

জেএইচ

Link copied!