বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

১৬ লাখ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

খুলনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

১৬ লাখ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

 বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’-এর দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে শুরু হওয়া এ ক্রীড়া আয়োজনে অনলাইনে নিবন্ধন করেছে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ শিশু-কিশোর।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর খুলনা মহানগরে প্রথম সফরে এসে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও বিকাশের এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছালে গ্যালারিতে থাকা শিক্ষার্থী ও ক্ষুদে ক্রীড়াবিদদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এ সময় পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসর শুধু খুলনার শিশু-কিশোরদের জন্য নয়, এটি সারা দেশের ছোট বন্ধুদের জন্য। দেশের ৫০০টির বেশি উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের শিশু-কিশোরেরা এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আগামী বছরের মে বা জুনে এ প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তোমরা পারো। ইউ ক্যান ডু ইট।” খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, কেউ নাচ করেছে, কেউ অভিনয় করেছে, আবার কেউ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছে। এতে প্রমাণিত হয়েছে, পড়ালেখা ও খেলাধুলার পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতিতেও শিশু-কিশোরদের প্রতিভা রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব আগামী প্রজন্মের। এ জন্য শিশু-কিশোরদের শুধু পড়ালেখায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতিতেও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ভবিষ্যতে কেউ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী কিংবা অন্য কোনো পেশায় যুক্ত হবে। তবে বিশ্বে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির জ্ঞানও অর্জন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ইতিমধ্যে ১৬ লাখের বেশি শিশু-কিশোর নিবন্ধন করেছে। এ বিপুলসংখ্যক নিবন্ধন প্রমাণ করে, সুযোগ পেলে শিশু-কিশোরেরা নিজেদের প্রতিভা বিকাশে আগ্রহী। সরকারের দায়িত্ব তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা, যাতে তারা পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারে।

শিশু-কিশোরদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার সুযোগও তৈরি করতে চান। পড়ালেখা, খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও ভাষাগত দক্ষতা অর্জন করতে পারলে বিশ্বে এগিয়ে যাওয়ার পথ আরও সুগম হবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের উদাহরণ অনুসরণ না করে নিজেরাই বিশ্বের কাছে শক্তিশালী ও সফল রাষ্ট্রের উদাহরণ হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এবারের আসরে নিবন্ধিত ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ শিশুর মধ্যে ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩ জন বালক এবং ৬ লাখ ৭৯ হাজার ১৩৫ জন বালিকা। নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ ছেলে এবং ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ মেয়ে।

প্রতিযোগিতায় ফুটবল, অ্যাথলেটিকস, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কাবাডি, দাবা, সাঁতার, ভলিবল, মার্শাল আর্ট ও টেবিল টেনিস—মোট ১০টি ইভেন্টে অংশ নেবে শিশু-কিশোরেরা। প্রথম আসরের আটটি ইভেন্টের সঙ্গে এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানান, দ্বিতীয় আসরে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করা হবে। প্রথম আসরে নিবন্ধিত হয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার শিশু-কিশোর। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে ১৬ লাখ ছাড়িয়েছে। আগামী বছরের মে বা জুনের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রথম আসরের বিজয়ীদের মধ্য থেকে ৪০ জন প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে বাছাই করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৮ জন মেয়ে ও ১২ জন ছেলে। নির্বাচিত খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

প্রধানমন্ত্রী শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর, প্রত্যেকেই এই বাংলাদেশের মালিক। এই দেশ তোমাদের। এই বাংলাদেশকে তোমাদের গড়ে তুলতে হবে, পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে।”

তিনি শিশু-কিশোরদের পড়ালেখার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজে সাজানো হয় খুলনা মহানগরী। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা ও বিভিন্ন স্থানে সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। জেলা স্টেডিয়াম ও সার্কিট হাউস এলাকায় নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুতি।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৪টার দিকে খুলনা সার্কিট হাউসে পৌঁছান। সেখানে কিছু সময় অবস্থানের পর জেলা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সফর শেষে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

জেএইচ

Link copied!