বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
প্রশাসন নিরব

জেলি মিশ্রিত চিংড়ির সয়লাব চলছে ফেনীর বাজার

এম শরীফ ভূঞা, ফেনী

প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম

জেলি মিশ্রিত চিংড়ির সয়লাব চলছে ফেনীর বাজার

জেলি মিশ্রিত চিংড়ি খেয়ে মানব দেহে ক্যান্সার ও কিডনি বিকলের আশঙ্কা থাকলেও এ নিয়ে নিরব ভূমিকায় আছে ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। জেলার সর্ববৃহৎ মাছের আড়ৎ থেকে প্রকাশ্যে বিষ মিশ্রিত এসব চিংড়ি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাট বাজারে বিক্রি হলেও এ নিয়ে তেমন কোন উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। মানব দেহের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর সিলিকা জেলি মিশ্রিত চিংড়ির সয়লাব চলছে ফেনীর বাজারে। মাঝে মধ্যে মাছ বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা অপ্রতুল বলে দাবী ভোক্তাদের। 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষিরা থেকে ফেনীতে প্রতিদিনই আসে বিভিন্ন জাতের বড় চিংড়ি। প্রতিদিন ভোরে ফেনীর সর্ববৃহৎ পৌর মাছের আড়তে চিংড়িবাহী ট্রাকে দেড়-দুই টন বড় জাতের চিংড়িগুলো আনলোড করা হয়। এরপর মাছগুলো ফেনী শহরের বড় বাজার, রেলগেইট বাজারসহ জেলার হাটবাজার গুলোতে চলে যায়। কেজিতে ১৫ পিস ও কেজিতে ১০ পিস আকারের চিংড়িতে খামারেই জেলি পুশ করা হয়। 
আড়তদাররা জানায়, মুনাফালোভী খামারিরা সিলিকা পাউডার ও ভাতের মাড় মিশিয়ে ঘন আঠালো জেলি তৈরি করে। এরপর তা সিরিঞ্জের মাধ্যমে চিংড়ির মাথা ও শরীরের নরম অংশে পুশ করে। এতে করে প্রতিকেজি মাছে দুই থেকে আড়াইশ গ্রাম ওজন বৃদ্ধি পায়। এসব মাছের মাথা ও শক্ত খোলসের সংযোগস্থলটি আলতো করে ভেঙে বা ফাঁক করে দেখলেই জেলির উপস্থিতি বোঝা যায়। 
ভোক্তারা জানায়, শুধু ফেনী শহরের বড় বাজার বা আড়ৎ নয়; ফেনীর কোথাও জেলির মিশ্রণ ছাড়া চিংড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। জেলি মিশ্রিত চিংড়ি খেয়ে ভোক্তাদের শরীরে দীর্ঘমেয়াদী নানা জটিল রোগ হলেও মৎস্য বিভাগ, ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হলেও তার কোন ধারাবাহিকতা থাকে না। 
ফেনীর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (পরশুরাম) সৈয়দ মোস্তফা জামান বলেন, ফেনীর কোথাও চিংড়িতে জেলি পুশ করা হয় না। যেসব খামারে চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত করা হয়, সেসব স্থানেই মূলত অসাধু চক্র সিরিঞ্জ দিয়ে জেলি পুশ করে থাকে। মৎস্য বিভাগ জেলি মিশ্রিত চিংড়ি বিক্রি ঠেকাতে নানা সময় অভিযান পরিচালনা করে মাছ জব্দ ও বিক্রেতাকে জরিমানা করেছে। এ বিষয়ে মৎস্য দপ্তর সক্রীয় রয়েছে। 
ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, ফেনীর বাজারে জেলি পুশ করা চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে এটা সত্য। বিষয়টি আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। এটি মজুদ ও বিক্রি বন্ধ করতে অভিযানও চলমান রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগের সাথে আলোচনা করে শিঘ্রই আড়ৎদারদের সাথে বসবো। এর মাধ্যমে সমাধান না হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ভূমিকা নেয়া হবে। 
 

দৈনিক মুক্তবাণী

Link copied!