ইউপিডিএফ প্রসীত সমর্থিত গ্রুপের ডাকা অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন সাজেকে অবস্থানরত প্রায় ৪ হাজার পর্যটক চরম বিপাকে পড়েছে। আগামী ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সাজেকে তাদের রুম বুকিং ছিল।পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে সাজেকে ডাকা অবরোধ প্রত্যাহারের আহবান জানিয়ে বলেছেন, অন্যথায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কথিত তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার থেকে আবারও সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেয় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন।
বুধবার বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
বিবৃতিতে বলা হয়,"শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং বাঘাইহাট ও মাচলং বাজার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। সন্তু লারমা জনসংহতি সমিতির সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষা এবং সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বৃহস্পতিবার থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
জানা গেছে, সাজেকে প্রায় দুই শতাধিক হোটেল-মোটলে বর্তমানে প্রায় চার হাজার পর্যটক অবস্থান করছে। আগামী ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে তাদের হোটেল-মোটেল বুকিং আছে।
নাম প্রকাশ না শর্তে কয়েক জন পর্যটন জানান, পৃথিবীর কোথাও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচী থাকলেও পর্যটকদের এভাবে হয়রানি করা হয় না। অথচ সাজেকে বেড়াতে এলে এ ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। ই- টুরিজম এসোসিয়েশনের (ইটাব) সদস্য উজ্জ্বল দে। তিনি অভিযোগ করেন, বুধবার খাগড়াছড়ি গেছে পর্যটক নিয়ে সাজেক গেছে ৪ শতাধিক পরিবহন। বৃহস্পতিবার আরো ৩ শতাধিক গাড়ী পর্যটক নিয়ে সাজেক যাওয়ার কথা ছিল।
তিনি অভিযোগ আরও করেন, প্রতি বছর পর্যটন মৌসুম আসলে কোন ইস্যু ছাড়াই সাজেকে নানা অজুহাতে পর্যটকদের সাজেকে যেতে নানা কর্মসূচী দিয়ে আসছে। এ কর্মসূচীর কারণ আরো বেশি চাঁদা আদায়। একটি স্বাধীন দেশ এ ভাবে চলতে পারে না।
এদিকে বুধবার রাতে সাজেকে অবরোধ নিয়ে এক স্বাক্ষাৎকারে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও সভাপতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া সশস্ত্র গ্রুপগলোকে অবরোধ প্রত্যাহারের আহবান জানিয়ে বলেছেন, অন্যথায় সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরণের অযৌক্তিক অবরোধ দেশের পর্যটন শিল্প ও অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাজেকে বসবাসরত নিরীহ পাহাড়িরা।
এদিকে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের ডাকা অবরোধ ডাক দেওয়ার পরপরই সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন।
বুধবার রাত ৮টার দিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ আদেশ জারি করেন।প্রশাসন সাজেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটন এলাকায় ভ্রমণরত পর্যটকদের বুধবারের মধ্যে পর্যটন এলাকা ত্যাগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
