হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে ফসলি জমি ও বসতভিটা হারাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নদীতীরবর্তী কয়েকটি এলাকাও। ভাঙন রোধে ডাইক নির্মাণ ও মেরামতের প্রকল্পের কাজ চললেও দীঘলবাকের সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এখনো কাজ হয়নি বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে প্রকল্পের আওতায় কাজ চললেও যেসব স্থানে ভাঙন তীব্র, সেসব স্থানে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রতিবছর ফসলি জমি ও বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নদীভাঙনে ইতিমধ্যে অন্তত ৫০০ পরিবারের বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের এই সংখ্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা যায়নি।
দীঘলবাক এলাকার এক কৃষক বলেন, ‘আমার তিন একর জমি ছিল। নদীভাঙনে সব বিলীন হয়ে গেছে। প্রকল্পের কাজের সময় ঠিকাদারকে ভাঙনকবলিত স্থানে বস্তা ফেলার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তাঁরা শুকনো জায়গায় বস্তা ফেলার কথা বলেন। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের জমি ও বাড়িঘর রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডাইক নির্মাণ ও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভাঙনকবলিত সব স্থানে কাজ না হওয়ায় তাঁরা প্রত্যাশিত সুরক্ষা পাচ্ছেন না। নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
দীঘলবাক ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মহসীন মিয়া বলেন, দীঘলবাকসহ কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কাজ করলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিবছরই নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ছায়েদুর রহমান বলেন, শেরপুর সেতু থেকে দীঘলবাক, পাহাড়পুর, মার্কুলী হয়ে আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের আওতায় কাজ চলছে। দীঘলবাকের সব স্থানে এখনো কাজ করা সম্ভব হয়নি। যেসব স্থানে কাজ হয়েছে, সেখানে ভাঙন রোধ করা গেছে। বাকি ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও ভাঙনকবলিত এলাকায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
