মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

জ্বালানি মহাপরিকল্পনায় জাতীয় স্বার্থ ও জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিতের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বরিশাল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৫:২২ পিএম

জ্বালানি মহাপরিকল্পনায় জাতীয় স্বার্থ ও জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিতের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া, বিদেশি নির্ভরতা কমানো এবং পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রতিটি পর্যায়ে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বরিশাল প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও সচেতনতামূলক সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
প্রান্তজন ট্রাস্ট, ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, বরিশাল এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিডব্লিউজিইডি) যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আমিনুল ইসলাম খোকন।
সমাবেশে ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, বরিশালের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট সুভাষ দাস বলেন, জ্বালানি মহাপরিকল্পনা দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, জনজীবন ও ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই এ পরিকল্পনা প্রণয়নে বিদেশি স্বার্থ বা পরামর্শের ওপর এককভাবে নির্ভর না করে দেশের বাস্তবতা, নিজস্ব সক্ষমতা ও জনগণের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
ফোরামের সদস্য শুভঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, জ্বালানি মহাপরিকল্পনা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নয়, বরং দেশের মানুষের কল্যাণে প্রণয়ন করতে হবে। পরিকল্পনার শুরু থেকেই নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পরিবেশকর্মী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া পরিকল্পনার খসড়া জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে জনগণের মতামত অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ব্যয়, পরিবেশগত প্রভাব এবং সাধারণ মানুষের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও যথাযথভাবে মূল্যায়নের দাবি জানান তাঁরা।
কর্মসূচি থেকে জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, বিদেশি নির্ভরতার পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থ ও দেশীয় সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, জনগণের মতামত গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আমিনুল ইসলাম খোকন বলেন, দেশের জ্বালানির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার ও দায়িত্ব বাংলাদেশের জনগণের। তাই জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো জ্বালানি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত নয়। গণমুখী, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনার মাধ্যমেই দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

জেএইচ

Link copied!