বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকা মেডিকেলে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘট; ভোগান্তিতে রোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম

ঢাকা মেডিকেলে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘট; ভোগান্তিতে রোগীরা

অ্যাম্বুলেন্স, মানবিক এই যান মৃত্যু পথযাত্রী রোগী কিংবা মরদেহ বহনে; ২৪ ঘণ্টাই থাকে ব্যস্ত। কিন্তু যানটির চলাচল ঢাকা মেডিকেল কলেজে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে রোগী ও মৃতের স্বজনরা।
ভোগান্তিতে পড়া এক রোগীর স্বজন জানান, ‘আমরা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আসছি, কিন্তু আমাদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এখান থেকেও বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোথাও অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছি না। রোগী মারা গেছেন। আমরা তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কোনো গাড়ি পাইনি। আমাদের বলা হচ্ছে, বাইরে গিয়ে গাড়ি খুঁজতে, নইলে কিছু করার নেই। অথচ ভেতরে যেসব গাড়িচালক আছেন, তারা বলছেন, তারা যাবেন না।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থায়ী পার্কিং ব্যবস্থার দাবিতে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘটে ঘটেছে এই বিপত্তি।

সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের অন্যতম এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তো কোনো অ্যাম্বুলেন্স মিলছে না, উল্টো বাইরে থেকে কেউ অ্যাম্বুলেন্স এনে রোগীদের অন্যত্র নিতেও পারছে না।

অভিযুক্ত ব্যক্তি স্টার নিউজকে জানান, ‘আমি অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য যানবাহন, বিশেষ করে রিকশাগুলো সরিয়ে দিচ্ছি, যাতে অ্যাম্বুলেন্সগুলো প্রবেশ করতে পারে। অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বাধা দিলে আমি ভুল করতে পারি।’

যদিও এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করছে বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স কল্যাণ সমিতি। বলছে, অন্য একটি চক্র এই ঘটনা ঘটাচ্ছে, যার দায় তাদের নয়।

এদিকে, বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাতবর বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, এমন অভিযোগ আসলে মিথ্যা। নিয়মিত অ্যাম্বুলেন্স ঢুকছে এবং রোগী নিয়ে ট্রিপে যাচ্ছে। যদি অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতেই না পারত, তাহলে এসব রোগী কোথায় যেতেন? রোগীরা তো অ্যাম্বুলেন্সে করেই যাচ্ছেন।’

তার দাবি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থায়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার দাবি মেনে নেয়া হলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি সব হাসপাতালের সামনেই রোগী ওঠানোর পর আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আমরা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা চাই। আমাদের পার্কিংয়ের ব্যবস্থার আশ্বাস দেয়া হলে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেব।’

জরুরি চিকিৎসাসেবা ও মরদেহ পরিবহনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ধর্মঘট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

এম/আই

Link copied!