সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে কাজ করছে চট্টগ্রামের তরুণদের দল ‘ডিজি ডিফেন্ডার্স’। জাতীয় পর্যায়ের একটি প্রতিযোগিতায় ৩৭১টি আবেদনকে পেছনে ফেলে সেরা আটটি দলের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। এর মাধ্যমে ‘ডিকেসি ডিজিটাল রেসপেক্ট অ্যান্ড কোহেশন ফেলোশিপ ২০২৬’-এ অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে চট্টগ্রামের এই তরুণ উদ্ভাবকরা।
যুবভিত্তিক সামাজিক সংগঠন সার্জ বাংলাদেশ (Surge Bangladesh) আয়োজিত এ ফেলোশিপের তিন দিনব্যাপী ইনোভেশন হ্যাকাথন সম্প্রতি গাজীপুরের কোকোমো সানসেট রিসোর্টে অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের আটটি বিভাগ থেকে নির্বাচিত ২৪ জন তরুণ উদ্ভাবক অংশ নেন।
হ্যাকাথনে অংশগ্রহণকারীরা ডিজিটাল নিরাপত্তা, অনলাইন আচরণ ও সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা তুলে ধরেন। পাশাপাশি এসব পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ দেওয়ার কৌশল নিয়েও কাজ করেন তারা। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত আটটি দলের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করছে ‘ডিজি ডিফেন্ডার্স’।
ফেলোশিপের আওতায় আগামী তিন মাস চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে দলটি। বিশেষ করে তরুণদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, অনলাইনে হয়রানির শিকার হলে করণীয় এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীল আচরণ সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দলটির সমন্বয়ক বিবি উম্মে ফাতিমা বলেন, ‘নবজাগরণ’ সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে তারা এ ফেলোশিপে অংশ নিয়েছেন। হ্যাকাথনে নিজেদের পরিকল্পনা ও ধারণাগুলোকে আরও কার্যকর ও বাস্তবায়নযোগ্য করার সুযোগ হয়েছে। আগামী তিন মাস চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
দলের সদস্য রকিবুল হাসান রাকিব বলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে হয়রানি ও সাইবার বুলিং বর্তমানে তরুণদের জন্য বড় একটি সমস্যা হয়ে উঠেছে। এ ধরনের হয়রানি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারে তরুণদের উৎসাহিত করাই তাদের কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ফেলোশিপে অংশগ্রহণের জন্য সারাদেশ থেকে মোট ৩৭১টি আবেদন জমা পড়ে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ১৩০টি দলকে সাক্ষাৎকারের জন্য মনোনীত করা হয়। পরবর্তী কয়েক ধাপের মূল্যায়ন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে দেশের আটটি বিভাগ থেকে একটি করে মোট আটটি দল চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়। প্রতিটি দলে তিনজন করে সদস্য রয়েছেন। সব মিলিয়ে ফেলোশিপে সুযোগ পেয়েছেন ২৪ জন তরুণ উদ্ভাবক।
জাতীয় পর্যায়ে এই অর্জনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের তরুণদের ‘ডিজি ডিফেন্ডার্স’ দল শুধু নিজেদের সক্ষমতার পরিচয়ই দেয়নি, বরং নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণের একটি সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে।
