বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার পুরনো রোগ, পিএসজির কাছে বড় হার

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১০:০২ এএম

চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার পুরনো রোগ, পিএসজির কাছে বড় হার

ঘরোয়া ফুটবলে দাপট দেখালেও ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে বারবার হোঁচট খাওয়ার পুরনো সমস্যাটা যেন আবারও সামনে এল বার্সেলোনার। দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছিল হান্সি ফ্লিকের দল।
কিন্তু শেষ দিকে রক্ষণভাগের দুর্বলতায় পরপর দুই গোল হজম করে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর (পিএসজি) কাছে ৪-২ ব্যবধানে হারতে হলো কাতালানদের।

মঙ্গলবার রাতে পার্ক দে প্রিন্সেসে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের ম্যাচে এই জয় পেয়েছে বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা।
মৌসুমের শুরুতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জিতেছিল বার্সেলোনা। পিএসজির বিপক্ষে হারেই ছেদ পড়ল সেই জয়ের ধারায়।
অন্যদিকে, চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়ে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল পিএসজি।

ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পিএসজি।
স্বাগতিকদের আক্রমণে শুরুতেই বিপাকে পড়ে বার্সেলোনার রক্ষণভাগ। দুই মিনিটের মধ্যে খভিচা কাভারাস্খেলিয়ার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপরও একাধিক সুযোগ তৈরি করে ফরাসি ক্লাবটি।

বার্সেলোনার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। তবে পিএসজির আক্রমণের চাপ সামলাতে পারেনি কাতালানরা। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে দেজিরে দুয়ের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। লামিনে ইয়ামালের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণ সাজায় পিএসজি। সেই আক্রমণের শেষ দিকে দারুণ শটে জাল খুঁজে নেন দুয়ে।

প্রথমার্ধে পিএসজির আক্রমণের ধার ছিল স্পষ্ট। চ্যাম্পিয়নস লিগে ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর এই প্রথম কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে বার্সেলোনাকে প্রতিপক্ষের আটটির বেশি শটের মুখে পড়তে হয়। গোলরক্ষক গার্সিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ না থাকলে বিরতির আগেই ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।


বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বার্সেলোনা। ৫৫ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে সমতায় ফেরে তারা। ফারমিন লোপেজের বাড়ানো বল পেয়ে পিএসজির গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভকে পরাস্ত করেন তরুণ এসপার্ট। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের অভিষেকেই গোল করে দলকে স্বস্তি এনে দেন এই তরুণ।


এরপর ম্যাচে ফেরার সুযোগও তৈরি করেছিল বার্সেলোনা। তবে পিএসজির গোলরক্ষক সাফোনভ ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় ব্যবধান বাড়াতে পারেনি তারা। উল্টো ৭২ মিনিটে আবারও পিছিয়ে পড়ে বার্সেলোনা। কর্নার থেকে দুয়ের বাড়ানো বলে হেড করে গোল করেন লুকাস হার্নান্দেজ।


তবে হার মানতে রাজি ছিল না ফ্লিকের দল। ৭৯ মিনিটে দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আবারও সমতা ফেরান ইয়ামাল। উঁচু করে বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত শটে পিএসজির জালে বল পাঠান স্প্যানিশ তরুণ। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২।


বার্সেলোনার সমতায় ফেরার আনন্দ অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৮১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে পিএসজিকে আবার এগিয়ে দেন ভিতিনিয়া। বার্সেলোনার রক্ষণভাগ বল পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে না পারায় সুযোগ পেয়ে যান পর্তুগিজ মিডফিল্ডার।

এরপর ম্যাচে ফেরার চেষ্টায় আক্রমণে মনোযোগ বাড়ায় বার্সেলোনা। তাতে রক্ষণভাগে তৈরি হয় ফাঁকা জায়গা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৮৬ মিনিটে আশরাফ হাকিমির বাড়ানো বল থেকে গোল করে পিএসজির জয় নিশ্চিত করেন ফাবিয়ান রুইজ।

শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে পিএসজি। দুইবার সমতায় ফিরেও শেষ মুহূর্তে রক্ষণ সামলাতে না পারার খেসারত দিতে হয় বার্সেলোনাকে।

জে/এইচ

Link copied!