ম্যাচের শুরুতে দিশেহারা লিভারপুল। একের পর এক আক্রমণে স্বাগতিকদের রক্ষণে ফাটল ধরিয়ে প্রথমার্ধেই দুই গোলের ব্যবধান গড়ে নেয় ভিয়ারিয়াল। কিন্তু অ্যানফিল্ডে শেষ হাসিটা হাসতে পারেনি স্প্যানিশ ক্লাবটি। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৪-৩ গোলের জয় তুলে নেয় লিভারপুল। জয়ের পথে জোড়া গোল করেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, আর দুটি গোলে অবদান রেখে আলোচনায় আসেন তরুণ রিও এনগুমোহা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ম্যাচের শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিল লিভারপুলের রক্ষণভাগ। চতুর্থ মিনিটে ভার্জিল ফন ডাইকের ভুলের সুযোগ নিয়ে জাল খুঁজে নেন জর্জেস মিকাউতাদজে। এরপর ২৯ মিনিটে সার্জি কারদোনা ব্যবধান বাড়ালে বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকেরা। দ্রুত দুই গোল হজম করে ম্যাচে ফেরার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে তারা।
পিছিয়ে পড়েও আক্রমণে মনোযোগ ধরে রাখে লিভারপুল। ৩৬ মিনিটে কস্তাস সিমিকাসের নেওয়া কর্নার থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ম্যাক অ্যালিস্টার। বিরতির ঠিক আগে আবারও আঘাত হানে স্বাগতিকেরা। এনগুমোহার বাড়ানো বলে হেড করে স্কোরলাইন ২-২ করেন রোনাল্ড আরাউহো। তাতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
বিরতির পর লিভারপুলের আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। ৬৫ মিনিটে ব্যক্তিগত দক্ষতায় ভিয়ারিয়ালের রক্ষণে ফাঁক তৈরি করেন এনগুমোহা। তার পাস কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করেন ম্যাক অ্যালিস্টার। তিন মিনিটের ব্যবধানে ব্যবধান আরও বাড়ান ফ্লোরিয়ান ভির্টজ। লিভারপুলের হয়ে চলতি মৌসুমে এটিই তার প্রথম গোল।
তিন গোলের ব্যবধান না হলেও দুই গোলের লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল লিভারপুল। কিন্তু ৮৭ মিনিটে তানি ওলুওয়াসেইয়ের গোলে আবারও চাপে পড়ে স্বাগতিকেরা। আয়োসে পেরেসের পাস থেকে গোলটি করে ব্যবধান ৪-৩ করেন তিনি। শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায় ভিয়ারিয়াল, তবে আর জালের দেখা পায়নি দলটি।
লিভারপুলের প্রত্যাবর্তনের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তরুণ এনগুমোহা। বয়স মাত্র ১৮ হলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার সিদ্ধান্ত, গতি ও আক্রমণ তৈরির দক্ষতা ভিয়ারিয়ালকে বিপাকে ফেলে। আর ম্যাক অ্যালিস্টারের দুই গোল নিশ্চিত করে স্বাগতিকদের জয়। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবলে ম্যাচ নিজেদের করে নেওয়াই ছিল লিভারপুলের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
