দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে কয়লাখনিতে কর্মরত ৮৭জন আউটসোসিং কর্মচারীকে স্থায়ী নিয়েগের দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে খনি কর্মচারীরা। রোববার বেলা ১১টায় খনির প্রধান গেটে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন কর্মচারী নেতা তোফায়েল আহম্মেদ, সাইদার রহমান, আবু বক্কর সিদ্দীক, আবুল খায়ের সাখাওয়াত হোসেন, গোলাম মোস্তফা, এরশাদ বুলবুল ও মোশাররফ হোসেন। এছাড়াও কর্মচারীদের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক আমিনুল ইসলাম শাহ, দীপঙ্কর শাহা, শরিফুল ইসলাম, মমিনুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম বাবু প্রমুখ ।
জানা যায়, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে বর্তমানে কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিন্তু উচ্চ আদালত থেকে খনিতে কর্মরত দক্ষ ৮৭ জন আউটসোসিং কর্মচারীকে স্থায়ী নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে। ফলে খনি কর্তৃপক্ষ নির্দেশের আলোকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে সারা দেশের ৬০৯ জন আবেদনকারী মধ্যে ৫৩ জনকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করা হয়। ওই ফলাফলে স্থান পেয়েছে খনিতে কর্মরত ৮৭ জন আউটসোসিং কর্মচারীর মধ্যে মাত্র ৮ জন। ফলে ফুঁসে উঠেছে সকল কর্মচারী।
সমাবেশে কর্মচারী নেতা তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, মহামান্য আদালত খনিতে কর্মরত দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞ আউটসোসিং কর্মচারীদের নিয়োগ দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। সেখানে বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ লিখিত পরীক্ষা নেওয়ায় অধিকাংশ আউটসোসিং কর্মচারী তাতে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষ খনিতে জমি দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। অথচ এলাকার কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগ না দিয়ে বহিরাগত লোকজনকে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন খনি কর্তৃপক্ষ। ৮৭ কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া না হলে কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। প্রয়োজনে খনিকে অচল করে দেওয়া হবে।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক বলেন, খনিকর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই মেনে নিতে হবে। অন্যথায় দাবি আদায়ে উপজেলা বিএনপি শ্রমিকদের পাশে থাকবেন। বিএনপি নেতা দিপঙ্কর শাহা বলেন, খনিতে এখনো ফ্যাসিস্টরা বসে আছে। কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া না হলে কয়লা খনিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ছানা উল্লাহ বলেন, মহামান্য আদালত খনিতে কর্মরত আউট সোসিং কর্মচারীদের পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দিতে বলেছেন, তবে বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে শিথিল করে আউটসোসিং কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে যারা লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেছে তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। নিয়ম মাফিক তারা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিবেন। তাছাড়া আদালত ৮৭ জনকে নিয়োগ দিতে বললেও বর্তমানে খনিতে পদসংখ্যা মাত্র ২২টি। সে হিসেবেই নিয়োগ কার্যক্রম চলমান আছে।
