বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
খুবির এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন

মৃতদের নাম, তথ্যের গরমিল ও বাল্ক পেমেন্টের অভিযোগ

খুলনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম

মৃতদের নাম, তথ্যের গরমিল ও বাল্ক পেমেন্টের অভিযোগ

 খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (কুআ) নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সদস্য নবায়নে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভোটার তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, এতে মৃত সাবেক শিক্ষার্থীদের নাম রয়েছে। কয়েকজনের অজান্তে তাঁদের নামে ভোটার ফি পরিশোধের অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া নির্ধারিত অনলাইন পেমেন্টের বাইরে গিয়ে বাল্ক পেমেন্টের মাধ্যমে কয়েকটি ডিসিপ্লিনের সদস্যদের বকেয়া চাঁদা পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনের যাচাইয়েও ভোটারদের তথ্যের গরমিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেটাবেজের সঙ্গে একাধিক এন্ট্রির অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে।

ভোটার তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, এতে মৃত দুজন সাবেক শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ৯৭ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মানস কুমার সাহা ২৩ মার্চ ২০২৬ ভারতে ক্যান্সারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের ১৩ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রভাষক প্রীতম খান ২২ জুন ২০২৪ খুলনায় ব্রেইন স্ট্রোকে মারা যান। তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে।

তালিকা পর্যালোচনা করে আরও দেখা গেছে, কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থীর অজান্তে তাঁদের নামে ভোটার ফি পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাবেক শিক্ষার্থী রুহুল আমিন রিয়াদ দাবি করেন, তিনি কোনো ভোটার ফি পরিশোধ করেননি এবং কোনো পুনর্মিলনীতেও অংশ নেননি। এরপরও ভোটার তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে এবং তাঁর নামে পেমেন্ট দেখানো হয়েছে। কীভাবে তাঁর নামে পেমেন্ট করা হলো, সে বিষয়ে কুআ কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া নির্ধারিত স্বয়ংক্রিয় অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতির বাইরে গিয়ে শেষ মুহূর্তে কয়েকটি ডিসিপ্লিনের সদস্যদের বকেয়া চাঁদা বাল্ক পেমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে এসব ডিসিপ্লিনের সদস্যদের ভোটার হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে গত ২ অক্টোবর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেন। তাঁর অভিযোগ, শেষ মুহূর্তে নির্দিষ্ট কয়েকটি ডিসিপ্লিনের সদস্যদের বকেয়া চাঁদা বাল্ক পেমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। এতে নির্বাচনে অসম সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অধ্যাপক মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০টি ডিসিপ্লিনে মোট ৫ হাজার ৩৮৩ ভোটারের মধ্যে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি, সিএসই, এগ্রোটেকনোলজি ও ইকোনমিক্সের ভোটার ৩ হাজার ৪২ জন। ফিশারিজে ৮৫৪, ফরেস্ট্রিতে ৭৯৭ এবং সিএসইতে ৭২০ জন ভোটার রয়েছেন। অন্যদিকে অনেক ডিসিপ্লিনে ভোটার সংখ্যা একশোরও কম।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মোবাইল বা ইমেইল ওটিপি এবং টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন না থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তাঁর তথ্য ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ রয়েছে। একই মোবাইল নম্বর বা ইমেইল দিয়ে একাধিক অ্যাকাউন্ট এবং ড্রপ আউটদের ভোটার হওয়ার আশঙ্কার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২ অক্টোবর কুআর কার্যনির্বাহী কমিটির কাছ থেকে ৫ হাজার ৭৩০ জনের প্রাথমিক সদস্য তালিকা পায় তারা। যাচাইয়ের পর ৫ হাজার ৬৩৬ জনকে নিয়ে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। ৯৪ জনের তথ্যে অসঙ্গতি পাওয়ায় তাঁদের তালিকার বাইরে রাখা হয়। পরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সহযোগিতায় আরও ১৩৭ জনের তথ্যে অমিল এবং ৪৯টি রোল নম্বরের বিপরীতে তথ্যের গরমিল পাওয়া যায়। একই সঙ্গে তিনজন মৃত ব্যক্তির নাম শনাক্ত করার কথাও জানিয়েছে কমিশন।

আগামী ৩০ অক্টোবর কুআর কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ৩০ সেপ্টেম্বর ছিল নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি, সদস্য নবায়ন ও ভোটার হওয়ার শেষ দিন। অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর কার্যনির্বাহী কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সদস্য অন্তর্ভুক্তি, নবায়ন ও ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। ফলে নির্বাচনের সূচিও পুনর্নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এস এম রফিজুল হক বলেন, প্রাথমিক ভোটার তালিকা তৈরি ও পেমেন্ট নেওয়ার দায়িত্ব কার্যনির্বাহী কমিটির, আর কমিশনের কাজ প্রাপ্ত তালিকা যাচাই-বাছাই করা। বাল্ক পেমেন্টের বিষয়ে তিনি বলেন, অন্যের হয়ে ফি দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে কারও অজান্তে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকলে লিখিতভাবে তা তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ইমেইল ও পাসওয়ার্ড সংক্রান্ত সমস্যাও রিসেট করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, কমিশনের নিজস্ব তদন্ত বা আইন প্রয়োগের ক্ষমতা নেই। এসব বিষয়ে কার্যনির্বাহী কমিটিকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। শেষ দিনে অতিরিক্ত চাপের কারণে ধীর হয়ে যাওয়া সার্ভারও আপগ্রেড করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নতুন করে এক সপ্তাহ সদস্য অন্তর্ভুক্তি ও নবায়নের সুযোগ দেওয়ার পর ভোটার তালিকা যাচাই করে নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণা করা হবে। কমিশনের দাবি, নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনই তাদের লক্ষ্য।

দৈনিক মুক্তবাণী

Link copied!