বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

চট্টগ্রাম আদালতে সাবেক পুলিশ সার্জেন্টের ৩ বছরের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

চট্টগ্রাম আদালতে সাবেক পুলিশ সার্জেন্টের ৩ বছরের কারাদণ্ড

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক সার্জেন্ট বেলায়েত হোসেনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে মোট ৮৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৪২ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে তার নামে ১ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৩ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।
তবে অনুসন্ধানে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৮ হাজার ৮৪৭ টাকা। পাশাপাশি আয়কর নথিতে তার ঘোষিত ব্যয় ও খরচের পরিমাণ ছিল ৮৪ লাখ ৮ হাজার ৬৯১ টাকা। ফলে সম্পদ ও ব্যয় বিবেচনায় তার মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ১৫৪ টাকা।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, বৈধ আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদ ও ব্যয়ের তুলনা করে ৯৮ লাখ ১ হাজার ৩০৭ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
অন্যদিকে, দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে বেলায়েত হোসেন নিজের নামে ৮৫ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৪ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেখিয়েছিলেন। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ে তার নামে ১ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৩ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এতে ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ১৭৯ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপনের বিষয়টি মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর সহকারী পরিচালক মো. মনজুর আলম বাদী হয়ে ২০০৯ সালের ২০ জুলাই বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় করা হয়।
মামলায় দুদকের পক্ষে আদালতে মোট ১০ জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রেজাউল করিম রনি জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় বেলায়েত হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই আইনের ২৭(১) ধারায় তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ৭৪২ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আদালতে অনুপস্থিত থাকায় রায় ঘোষণার পর সাবেক এই পুলিশ সার্জেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

##

জে/এইচ

Link copied!