বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

রাঙ্গামাটিতে সেনাবাহিনী ও সিএমএইচের যৌথ উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ

​রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

রাঙ্গামাটিতে সেনাবাহিনী ও সিএমএইচের যৌথ উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ

 পার্বত্য অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি। বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটি রিজিয়ন ও রাঙ্গামাটি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) যৌথ উদ্যোগে এ মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
​দিনব্যাপী আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনে পাহাড়ের দুর্গম ও সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আসা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় ৮০০ জন অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত রোগীকে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ, চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়।
​আয়োজকরা জানান, পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক দুর্গমতা, যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও মানসম্মত চিকিৎসা সরঞ্জামের স্বল্পতার কারণে স্থানীয় প্রান্তিক মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হন। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের জন্য নিয়মিত বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ প্রদান ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এরই অংশ হিসেবে আজকের এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়।
​কার্যক্রম চলাকালে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন সরেজমিনে পরিদর্শন করেন রাঙ্গামাটি জোন কমান্ডার। পরিদর্শনকালে তিনি চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। পাশাপাশি ক্যাম্পেইনে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সার্বিক সেবার অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
​সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে রাঙ্গামাটি জোন কমান্ডার বলেন, “পাহাড়ের ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে অনেক মানুষ সময়মতো মানসম্মত চিকিৎসার সুযোগ পান না। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব সময় পার্বত্য এলাকার মেহনতি ও সাধারণ মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তাদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে আমাদের এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং এর পরিধি সামনে আরও বাড়ানো হবে।”
​স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 

দৈনিক মুক্তবাণী

Link copied!