যানজট ও পরিবেশদূষণ কমানোর পাশাপাশি নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক। আগামী শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর নগরবাসীর জন্য ট্র্যাকটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
উদ্বোধনের আগে বৃহস্পতিবার সাইকেল ট্র্যাকের নির্মাণকাজ ও সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি ট্র্যাকের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং উদ্বোধন উপলক্ষে চলমান প্রস্তুতি, নির্মাণমান ও নাগরিকদের চলাচলের সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে মেয়র ট্র্যাকটি ব্যবহারকারীবান্ধব, নিরাপদ ও নান্দনিকভাবে প্রস্তুত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। এটি শুধু সাইকেল চলাচলের জন্য একটি পৃথক পথ নয়, বরং স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব নগরজীবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ‘চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট রোড সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। সড়কের দুই পাশে নির্মাণ করা হয়েছে ফুটপাত। পাশাপাশি সড়কের মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে মিড আইল্যান্ড এবং এক পাশে ল্যান্ডস্কেপিং ওয়াকওয়ের সঙ্গে নির্মাণ করা হয়েছে সাইকেল ট্র্যাক।
মেয়র বলেন, পৃথক সাইকেল লেন থাকায় সাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা বাড়বে। একই সঙ্গে নগরবাসীর জন্য পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে। এতে তরুণদের মধ্যে সাইকেল ব্যবহারে আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রবণতাও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ সাইকেল চলাচলের পরিবেশ তৈরি করা গেলে নগরের যানজট ও দূষণ কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। চট্টগ্রামকে ভবিষ্যতে আরও সাইকেলবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই সাইকেল ট্র্যাক চট্টগ্রামের পরিবহন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে তরুণদের সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত করা, শরীরচর্চার সুযোগ সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মো. আলী, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া এবং মেয়রের একান্ত সচিব (অ. দা.) আজিজ আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
